ভারত সরকারের অর্থে নির্মিত হচ্ছে বহুল আকাঙ্ক্ষিত আখাউড়া-আগরতলা ডুয়াল গেজ রেলপথ। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে দুই দেশের মানুষ খুব সহজে এবং স্বল্প খরচে উভয় দেশে যাতায়াত করতে পারবে। কিন্তু তিন দফায় মেয়াদ বাড়িয়েও অর্ধেক কাজ শেষ হয়নি ২০১৮ সালের ২১ মে মাসে শুরু হওয়া প্রকল্পটি। এমনকি আরো এক বছর মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এ রেলপথের কাজ ধীরগতিতে হওয়ায় চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।
সম্প্রতি ‘আখাউড়া হতে আগরতলা পর্যন্ত ডুয়াল গেজ রেল সংযোগ নির্মাণ (বাংলাদেশ অংশ)’ শীর্ষক প্রকল্পের ওপর অনুষ্ঠিত প্রজেক্ট স্টিয়ারিং কমিটির (পিএসসি) সভায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। সভার কার্যপত্র সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
পিএসসি সভায় রেলপথ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শেখ সাকিল উদ্দিন আহমদ (পরিকল্পনা) বলেন, প্রকল্পটির মেয়াদ এর আগে তিনবার বৃদ্ধি করা হয়েছে। সে অনুযায়ী ২০২২ সালের জুনে এর কাজ সমাপ্ত হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু প্রকল্পের কাজ ধীরগতিতে সম্পন্ন হওয়ায় ভারতীয় কর্তৃপক্ষ চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
এ প্রসঙ্গে শেখ সাকিল উদ্দিন আহমদ বণিক বার্তাকে বলেন, দুই দেশের জন্যই বহুল আকাঙ্ক্ষিত আখাউড়া-আগরতলা ডুয়াল গেজ রেলপথ। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে দুই দেশের মানুষ খুব সহজে এবং স্বল্প খরচে উভয় দেশে যাতায়াত করতে পারবে। কিন্তু বারবার সময় বৃদ্ধি করার পরও এটি বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে না। প্রকল্পটি ভারত সরকারের অনুদানের অর্থে বাস্তবায়ন হচ্ছে। ভারত সরকারও চাচ্ছে প্রকল্পটির দ্রুত বাস্তবায়ন হোক। কিন্তু প্রকল্পকাজের ধীরগতিতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।
জানা গেছে, আখাউড়া-আগরতলা রেলপথটি মোট সাড়ে ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ। এর মধ্যে চার কিলোমিটার অংশ ভারতে এবং বাকি সাড়ে ছয় কিলোমিটার অংশ বাংলাদেশে। রেলপথটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার গঙ্গাসাগর রেলওয়ে স্টেশন থেকে আগরতলার নিশ্চিন্তপুর সীমান্ত পর্যন্ত যাবে।
পিএসসি বৈঠকে জানানো হয়, আখাউড়া-আগরতলা ডুয়াল গেজ রেলওয়ে সংযোগ নির্মাণ প্রকল্পের বাংলাদেশ অংশের কাজের জন্য ২০১৮ সালের ২১ মে ভারতের নয়াদিল্লির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টেক্সমেকো রেল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি হয়। ১৮ মাস মেয়াদি এ প্রকল্প কাজের ব্যয় ধরা হয় ২৪০ কোটি ৯০ লাখ ৬৩ হাজার ৫০১ টাকা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২০১৮ সালের ২৯ জুলাই প্রকল্পের কাজ শুরু করে। প্রকল্পের কাজ ২০২০ সালের ২৯ জানুয়ারি শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রথম দফায় ওই বছরের ১৩ মে পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়। তবে প্রথম দফায় বর্ধিত সময়ের মধ্যে মহামারী নভেল করোনাভাইরাস হানা দেয়ায় কাজ বন্ধ রাখা হয়। ফলে প্রথম দফায় বাড়ানো সময়ে কাজ শেষ করা যায়নি।
করোনার কারণে ২০২০ সালে মার্চের শেষ ভাগ থেকে প্রকল্পের কাজ বন্ধ রাখা হয়। দুই মাস পর শুরু হলেও করোনার কারণে সব শ্রমিক নিয়মিত কাজে না আসায় সার্বিক দিক বিবেচনায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের আবেদনে দ্বিতীয় দফায় ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়। এরপর আরো এক দফা মেয়াদ বাড়িয়ে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়। তবে এ সময়েও কাজ শেষ হবে না বলে আশঙ্কা করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। তাই আরো এক বছর সময় বাড়ানোর প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রকল্প বাস্তবায়নে সমস্যা ও ধীরগতির কারণ প্রসঙ্গে সভাকে জানানো হয়, প্রকল্পটি ভারতীয় অনুদানে বাস্তবায়ন হচ্ছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানও ভারতীয়। বাস্তবায়নের জন্য যেসব মালামাল প্রয়োজন তা অনুদানের শর্তানুযায়ী ভারত থেকেই আনতে হচ্ছে। এতে বাস্তবায়নে কিছুটা ব্যাঘাত ঘটছে। এছাড়া কভিড-১৯-এর জন্য বাংলাদেশ ও ভারতে লকডাউন জারি করায় প্রকল্পের কাজ কিছুদিন বন্ধ ছিল। এসব কারণেই প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে হয়নি। তবে বর্তমানে মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন চলমান রয়েছে।
প্রকল্পের প্রধান প্রধান কার্যক্রমভিত্তিক বাস্তবায়ন অগ্রগতির বিষয়ে সভায় জানানো হয় যে এমব্যাংকমেন্টের কাজ ৯৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া ১৫টি সেতুর মধ্যে এরই মধ্যে ১২টির নির্মাণকাজ অধিকাংশ সম্পন্ন হয়েছে। প্রয়োজনীয় রেল ক্রয় ও সাইট আপ সম্পন্ন হয়েছে, আংশিক ব্যালাস্ট সাইট আপ করা হয়েছে, পি-ওয়ে ফিটিংস সংগ্রহ ও সাইট আপ করা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। শিগগির ট্র্যাক লিংকিং কাজ শুরু হবে। এখন পর্যন্ত প্রকল্পের সার্বিক ভৌত অগ্রগতি হয়েছে ৫২ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে ৪০ দশমিক ৫৪ শতাংশ।










