বিশ্বসেরা ২% বিজ্ঞান গবেষকের তালিকায় স্থান পেয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ শিক্ষক ও এক শিক্ষার্থী।

তারা হলেন পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এ এ মামুন, প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞানের অধ্যাপক মো. ইব্রাহিম খলিল, ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজির অধ্যাপক শামীম কায়সার, পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হুমায়ূন কবির এবং পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফোরমেটিক্স বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মেদ এ মামুন।

আমেরিকার স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির গবেষক জন পি এ ইয়োনিডিসের সহযোগিতায় গত ১০ অক্টোবর বিখ্যাত জার্নাল এলসেভিয়ারে এ তালিকা প্রকাশিত হয়।

বিজ্ঞানীদের প্রকাশনা, এইচ-ইনডেক্স, সাইটেশন ও অন্যান্য সূচক বিশ্লেষণ করে তালিকাটি প্রস্তুত করা হয়। স্কোপাস ইনডেক্সড আর্টিকেলকে ভিত্তি হিসেবে ধরে ২২টি বৈজ্ঞানিক ক্ষেত্র এবং ১৭৬টি উপ-ক্ষেত্রে শ্রেণীবদ্ধ করে দুটি ক্যাটাগরিতে প্রায় ৪ লাখ গবেষককে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

দুই ক্যাটাগরি হলো- পুরো পেশাগত জীবন ও এক বছরের গবেষণাকর্ম। জাবির এই পাঁচ শিক্ষক ও এক শিক্ষার্থী ২০২১ সালের গবেষণাকর্মের জন্য সেরা গবেষকদের তালিকায় রয়েছেন।

এতে বাংলাদেশ থেকে মোট সেরা গবেষকের সংখ্যা ১৪২ জন; যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্রের। প্রতিষ্ঠানটির মোট ১৬ জন গবেষক এই তালিকায় আছেন আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রয়েছেন সাত শিক্ষক। গত বছর এই তালিকায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছিলেন অধ্যাপক এ এ মামুন ও অধ্যাপক ইব্রাহিম খলিল।

অধ্যাপক এ এ মামুন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়াজেদ মিয়া বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। প্লাজমা পদার্থবিজ্ঞানী হিসেবেও পেয়েছেন একাধিক পুরস্কার।

সেরা গবেষকদের তালিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একজন গবেষক হিসেবে এটি অত্যন্ত আনন্দের খবর। আর বেশি আনন্দ হচ্ছে গতবছরের তুলনায় আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় অনেক এগিয়েছে, এমনকি আমাদের একজন শিক্ষার্থীও এতে রয়েছেন। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় আমরা এগিয়ে রয়েছি, সবার জন্য গবেষণার পরিবেশ তৈরি করে আরো এগিয়ে যেতে চাই।

পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ এ মামুন শিক্ষার্থীদের জন্যও গবেষণা অনুদান দাবি করেন।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় আমাকে ডিগ্রি দিচ্ছে, আমার এই র‌্যাংকিং দিয়ে সেই বিশ্ববিদ্যালয়কে কিছুটা হলেও তার প্রতিদান দিতে পেরেছি এটা আমার অনেক বড় প্রাপ্তি। আমি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সারাজীবন কাজ করতে চাই। আরেকটা অনুরোধ যাতে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেটে ছাত্রদের জন্য গবেষণা অনুদান থাকে। তাহলে আমার মত আরও অনেকেই গবেষণা করবে এবং আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন র‌্যাংকিংয়ে এগিয়ে যাবে।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. নূরুল আলম তালিকায় স্থান পাওয়া সেরা গবেষকদের অভিনন্দন জানান ও গবেষণা পরিবেশ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের এরকম অর্জনে উপাচার্য হিসেবে আমি অনেক বেশি আনন্দিত ও গর্বিত বোধ করছি।