চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) এ অঞ্চলের প্রধান গাড়ির বাজারগুলোয় বিক্রি বেড়েছে প্রায় ১১ শতাংশ। ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে বিক্রি বাড়ায় সামগ্রিক বাজারে এ প্রবৃদ্ধি এসেছে। খবর নিক্কেই এশিয়া।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে বড় গাড়ির বাজার ইন্দোনেশিয়া। দ্বিতীয় প্রান্তিকে দেশটিতে গাড়ি বিক্রি হয়েছে ২ লাখ ২৭ হাজার ৫৪৫টি। এক বছর আগের একই সময়ের তুলনায় বিক্রি বেড়েছে ৩৪ শতাংশ। সরকারি প্রণোদনা ও চীনা ব্র্যান্ডের ইভি ও প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির প্রতি বাড়তি আগ্রহ এ প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে।
ইন্দোনেশিয়ার বাজারে চীনা গাড়ি নির্মাতাদের উপস্থিতিও দ্রুত বাড়ছে। দেশটির অটোমোটিভ ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের (গাইকিন্ডো) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) দেশটির মোট গাড়ির বাজারের প্রায় ৫ দশমিক ৩ শতাংশ দখলে নিয়েছে চীনের বিওয়াইডি।
চীনা কোম্পানিগুলো শুধু ব্যাটারিচালিত গাড়িতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। বিওয়াইডি ও চেরির মতো কোম্পানি প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়িও বাজারে আনছে।
ইন্দোনেশিয়ার বাজারে চীনা গাড়ির জনপ্রিয়তা বাড়লেও ক্রেতাদের মধ্যে এ নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে। জাকার্তার ব্যবসায়ী আনাস্তাসিয়া পুত্রি উইদজাজা জানান, পরবর্তী গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে তার পছন্দ বিওয়াইডির এম৬ প্লাগইন হাইব্রিড। সাত আসনের গাড়িটি ব্যবহারিক ও তুলনামূলক সাশ্রয়ী হওয়ায় তার আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
তবে অনেকে এখনো জাপানি ব্র্যান্ডের ওপর বেশি আস্থা রাখছেন। ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব জাভার কনটেন্ট নির্মাতা আন্দ্রিয়াওয়ান প্রাতিকতো জানান, তিনি জাপানি হাইব্রিড গাড়ি পছন্দ করেন। কারণ দেশটির ছোট শহরগুলোয় এসব গাড়ির সার্ভিস নেটওয়ার্ক ও যন্ত্রাংশ সহজে পাওয়া যায়।
মালয়েশিয়ায়ও গাড়ির বাজারে প্রবৃদ্ধি হয়েছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে দেশটিতে গাড়ি বিক্রি হয়েছে ২ লাখ ১ হাজার ২৪২টি। এক বছর আগের তুলনায় এটি ৯ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মালয়েশিয়ার গাড়ির বাজারে দুটি পরিবর্তন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। একটি হলো স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিকলের (এসইউভি) বাড়তি চাহিদা। অন্যটি ইভির দ্রুত বিস্তার।
চলতি বছরের প্রথমার্ধে মালয়েশিয়ায় ইভি বিক্রি বেড়েছে ১০৬ শতাংশ। এ সময় বিক্রি হয়েছে ২৬ হাজার ১৯২টি ইভি। প্রথমবারের মতো দেশটিতে ইভির বিক্রি হাইব্রিড গাড়িকে ছাড়িয়ে গেছে। হাইব্রিড গাড়ি বিক্রি হয়েছে ২৫ হাজার ৫৯০টি।
মালয়েশিয়ায় ইভির বাজার বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখছে স্থানীয় ব্র্যান্ড প্রোটনের ই.মাস সিরিজ। চলতি বছরের প্রথমার্ধে দেশটির সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া ইভি ছিল ই.মাস ৫। দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল ই.মাস ৭।
থাইল্যান্ডেও গাড়ির বাজারে প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে দেশটিতে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৮৮৩টি গাড়ি বিক্রি হয়েছে। এক বছর আগের তুলনায় বিক্রি বেড়েছে প্রায় ১০ শতাংশ। ভিয়েতনামের বাজারের চিত্র কিছুটা আলাদা। দ্বিতীয় প্রান্তিকে ভিয়েতনাম অটোমোবাইল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ভামা) সদস্যদের গাড়ি বিক্রি বেড়েছে ২ শতাংশ। বিক্রি হয়েছে ৯২ হাজার ৯৭৬টি গাড়ি। অন্যদিকে ফিলিপাইনের গাড়ির বাজারে পরিস্থিতি তুলনামূলক দুর্বল। দ্বিতীয় প্রান্তিকে দেশটিতে গাড়ি বিক্রি ১৪ শতাংশ কমে ৯৭ হাজার ৯৮৮টিতে নেমেছে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে ইভি ব্যবহারে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে সিঙ্গাপুর। ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে দেশটিতে নতুন গাড়ি নিবন্ধনের প্রায় ৬২ শতাংশই ছিল ইভি। এক বছর আগে এ হার ছিল প্রায় ৪০ শতাংশ।










