আমদানি-রফতানি যথারীতি চললেও দুই বছর ধরে সিলেটের সবচেয়ে পুরনো জকিগঞ্জ শুল্ক স্টেশনের ইমিগ্রেশন দিয়ে ভারতে যাত্রী পারাপার বন্ধ রয়েছে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য ও চিকিৎসাসহ বিভিন্ন কাজে ভারতে যাওয়া যাত্রীদের দুর্ভোগ বেড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও যাত্রী পারাপার স্বাভাবিক হচ্ছে না।
বৈশ্বিক মহামারী করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় ২০২০ সালের ২৩ মার্চ সারা দেশের ইমিগ্রেশন চেকপোস্টগুলো সরকার বন্ধ করে দেয়। সরকারি নির্দেশনা পেয়ে জকিগঞ্জ ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে পুরোপুরি যাত্রী পারাপার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সেই থেকে এ চেকপোস্ট দিয়ে যাত্রী পারাপার বন্ধ রয়েছে। ভারত অংশের ইমিগ্রেশন খোলা থাকায় অনেককেই বাংলাদেশে ফেরার চেষ্টা করতে দেখা যায়। তবে বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন খোলা না থাকায় বিকল্প ইমিগ্রেশন দিয়ে বাংলাদেশীদের দেশে ফিরতে হয়।
এদিকে আমদানিকারকরা জানান, জকিগঞ্জ শুল্ক স্টেশনের কয়েক গজের মধ্যেই রয়েছে জকিগঞ্জ থানা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের কার্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক। অন্যদিকে সীমান্তরেখা কুশিয়ারা নদীর ওপারেই রয়েছে ভারতের জেলা শহর করিমগঞ্জ। সেখানেও নিরাপত্তাজনিত ও যোগাযোগের সব সুযোগ-সুবিধা হাতের নাগালে রয়েছে। এজন্যই ব্রিটিশ আমল থেকে জকিগঞ্জ শুল্ক স্টেশনটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে আসছে। এছাড়া কাঁচামাল আমদানিতে স্টেশনটি ব্যবহার করেন সিলেট অঞ্চলের আমদানিকারকরা।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ইকবাল হোসেন জানান, চিকিৎসা, পড়াশোনা, ভ্রমণ ও ব্যবসার জন্য পাসপোর্টধারী যাত্রীরা ভারত-বাংলাদেশে যাতায়াত করেন। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার ফলে বর্তমানে দেশের সব সীমান্ত পথ খুলে দেয়া হয়েছে। শুধু জকিগঞ্জ ইমিগ্রেশন বন্ধ রয়েছে। কী কারণে এখনো যাত্রী পারাপার বন্ধ, স্টেশনে কর্তব্যরতদের কাছ থেকেও সঠিক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।
ভারতের আসামে এনআইটিতে পড়াশোনা করেন সিলেটের গালিব। জকিগঞ্জ ইমিগ্রেশন দিয়ে আসা-যাওয়া তার জন্য সহজ ও সাশ্রয়ী। ভারতের দিকে ইমিগ্রেশন খোলা থাকার কারণে তিনি জকিগঞ্জ ইমিগ্রেশন দিয়ে দেশে ফেরার জন্য এসেছিলেন। পরে বাংলাদেশে ইমিগ্রেশন বন্ধ থাকায় সাত-আট কিলোমিটার দূরবর্তী সুতারকান্দি দিয়ে তাকে দেশে ফিরতে হয়। গালিব জানান, জকিগঞ্জ ইমিগ্রেশন চালু থাকলে তার সময় ও টাকা বাঁচত।
সিলেট জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আকরাম আলী বলেন, ১৯৭১ সালের ২২ নভেম্বর এ স্টেশনের কার্যক্রম চালু হয়েছিল। তখন থেকে শুল্ক স্টেশনটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে আসছে। কিন্তু দুই বছরেরও বেশি সময় জকিগঞ্জ ইমিগ্রেশন বন্ধ থাকায় সিলেট ও ভারতের আসাম, মেঘালয়, মিজোরাম, মণিপুর, ত্রিপুরাসহ কয়েকটি রাজ্যে যাতায়াতকারী যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। ভারতে চিকিৎসা নেয়া অসুস্থ লোকজনও এ স্টেশন দিয়ে ভারতে যেতে না পেরে বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছে। আমদানি-রফতানিকারকরাও ভারত থেকে মাল ক্রয় করে লোকসান গুনছেন।
সিলেট চেম্বারের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বিশিষ্ট আমদানিকারক ফালাহ উদ্দিন আলী আহমদ জানান, ভারতের দিক থেকে ইমিগ্রেশন খোলা রয়েছে। রহস্যজনক কারণে বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন বন্ধ রয়েছে। তিনি বলেন, জকিগঞ্জ স্টেশন দিয়ে মূলত কাঁচামাল আদা, রসুন, সাতকরাসহ বিভিন্ন মাল আমদানি করা হয়। ইমিগ্রেশন বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা আগে নিজেরা ভারতে গিয়ে মালামাল দেখে আমদানি করতে পারতেন। বর্তমানে যাওয়ার সুযোগ বন্ধ থাকায় আমদানিকারকরা প্রতারিত হচ্ছেন। অনেক সময় পচা মাল পাওয়া যায়, যা পুনরায় ফেরতও দেয়া যায় না। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হন ব্যবসায়ীরা। এছাড়া ব্যবসায়ীরা সুতারকান্দি দিয়ে প্রবেশ করে মালামাল জকিগঞ্জ দিয়ে নিয়ে আসতে খরচ অনেক বেড়ে যায়। তিনি বলেন, দ্রুত ইমিগ্রেশন খুলে দেয়া জরুরি।
জকিগঞ্জ শুল্ক স্টেশনের দায়িত্বরত কর্মকর্তা আমিনুল হক বলেন, জকিগঞ্জ স্টেশনটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কী কারণে যাত্রী পারাপার বন্ধ, তা আমাদের জানা নেই। নির্দেশনা পেলে পুনরায় যাত্রী পারাপার শুরু হবে।










