বগুড়া শহরের ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিত্যক্ত ফতেহ আলী সেতু পুনর্নির্মাণ করা হচ্ছে। সেতুটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ২২ কোটি টাকা। সেতুটি পুনর্নির্মাণ হলে জেলার চারটি উপজেলার মধ্যে সরাসরি সড়কপথে যোগাযোগ আবারো চালু হবে। এতে লাখ লাখ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবের পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহনে গতি আসবে।

জানা যায়, ১৯৬২ সালে করতোয়া নদীর ওপর ৬৮ মিটার দীর্ঘ ফতেহ আলী সেতু নির্মাণ করে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। সে সময় সেতুটি নির্মাণে মোট ব্যয় হয়েছিল ২০ লাখ টাকা। নির্মাণের নয় বছর পর মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সেতুটির কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্বাধীনতার পর সেটি মেরামত করে জনসাধারণের জন্য খুলে দেয়া হয়। এর পর থেকে আর কোনো সংস্কার না থাকায় দিন দিন সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।

জেলার সারিয়াকান্দি, সোনাতলা, গাবতলী ও বগুড়া সদর উপজেলাবাসীর সড়ক যোগাযোগের মাধ্যম ৬০ বছর বয়সী এ সেতু। কৃষিপণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও সেতুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জেলার সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও গাবতলী উপজেলায় প্রচুর পরিমাণে লাল মরিচ, সবজি, ফুল, ধান ও পাট চাষ হয়। এ পণ্যগুলো পরিবহনে সেতুটি বিশেষ ভূমিকা রেখে যাচ্ছে।

দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সেতুটি একপর্যায়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। ভারী যানবাহন উঠলেই সেতুটি দুলতে থাকত। এছাড়া সেতুর রেলিংও নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। সেতুর নিচের কলামে নোনা ধরে ক্ষয়ে যেতে থাকে। সে কারণে ২০১৮ সালে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। এর পর থেকে ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। ভারী যানবাহন চলাচল করে ৫ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে। ভারী যানবাহন চলাচলে অন্য সড়ক ব্যবহার হলেও রয়েছে নানা দুর্ভোগ। সরু পথে যানবাহন চলাচল করায় যানজটের সৃষ্টি হয়।

সেতু ব্যবহার করে বগুড়া শহরে চলাচলকারী হামিদুজ্জামান জানান, ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়ার পর থেকে বগুড়া জেলা সদরের সঙ্গে চার উপজেলার সরাসরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। কয়েক কিলোমিটার ঘুরে ভারী যানবাহন চলাচল করায় পণ্য পরিবহনে খরচ বেড়ে যাচ্ছে।

ফতেহ আলী সেতুসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা জয়ন্ত দেব জানান, সড়ক ও জনপথ বিভাগের পক্ষ থেকে সেতুর দু্ই পাশে খুঁটি দিয়ে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। এতে শুধু রিকশা ও মোটরসাইকেল চলাচল করতে পারে। সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচলেও কয়েক কিলোমিটার ঘুরতে হয়। সেক্ষেত্রে ঘুরে আসার পথটিও সরু। সে পথে ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে যানজটেরও সৃষ্টি হচ্ছে। এতে দুর্ভোগে পড়তে হয় যানবাহন চালক ও যাত্রীদের।

বগুড়া জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সেতুটি নির্মাণের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২২ কোটি টাকা। সেতুটি পুনর্নির্মাণ করা হলে ভারী যানবাহন চলাচল সহজ হবে। এ সেতুর দৈর্ঘ্য হবে ৬৮ ফুট, প্রস্ত হবে ৪০ ফুট। এর মধ্যে সেতুর দুই পাশে ৮ ফুট করে ফুটপাত হবে। আর মাঝের ২৪ ফুট দিয়ে যানবাহন চলাচল করবে। সেতুটির নকশা তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হয়। চলতি বছরের ৩১ জুলাই বাংলাদেশ সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয় সেতুটির নকশা ও অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে। সেতুটির নির্মাণকাজের জন্য দ্রুততম সময়ে দরপত্র আহ্বান করে নভেম্বর-ডিসেম্বরে কাজ শুরু করার কথা রয়েছে। ২০২৩ সালের জুনে সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করার কথা রয়েছে। সেতুটি দৃষ্টিনন্দন করার পাশাপাশি আধুনিকভাবে নির্মাণ করা হচ্ছে।

বগুড়া সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান জানান, ২০২১ সালে সেতুটি নির্মাণের জন্য একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়। এরই মধ্যে সেটি পাসও হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব সেতুটির কাজ শুরু করা হবে।