গ্যাস সংকট কাটিয়ে দীর্ঘদিন পর ইউরিয়া সার উৎপাদনে ফিরেছিল জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার যমুনা ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড। তবে এর দুদিনের মাথায় গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় আবারো উৎপাদন বন্ধ করেছে কারখানাটি। গতকাল সকাল থেকে উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন বিভাগের প্রধান মো. ফজলুল হক। তিনি বলেন, ‘গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলে আবারো উৎপাদন শুরু হবে।’

জানা গেছে, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর গত ২০ সেপ্টেম্বর যমুনা সার কারখানায় গ্যাস সংযোগ দেয়া হয়। এরপর ৬ অক্টোবর উৎপাদন শুরু হলেও কারিগরি ত্রুটির কারণে ৮ অক্টোবর আবারো উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। পরে ত্রুটি সমাধান করে গত শুক্রবার পুনরায় উৎপাদন শুরু হয়। এর দুদিনের মাথায় গতকাল গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় আবারো কারখানাটির কার্যক্রম থমকে গেছে।

উৎপাদন বিভাগের প্রধান মো. ফজলুল হক বলেন, ‘চালুর সময়ে পুরোপুরি স্বাভাবিক উৎপাদনে যেতে না পারলেও গত দুদিনে মোট ১ হাজার ৬০০ টন ইউরিয়া সার উৎপাদন হয়েছে। কারখানাটিতে নিরবচ্ছিন্নভাবে উৎপাদন চালু রাখতে দৈনিক ৪২-৪৩ পিএসআই গ্যাসের চাপ প্রয়োজন।’

কিন্তু প্রয়োজন অনুযায়ী গ্যাসের চাপ ও সরবরাহ না পাওয়ায় উৎপাদন চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না।’

প্রসঙ্গত, যমুনা সার কারখানা বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) তালিকাভুক্ত ১ হাজার ৯০০ ডিলারের মাধ্যমে জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইলসহ উত্তরাঞ্চলের ২১টি জেলায় সার সরবরাহ করে আসছে। কারখানাটি স্বাভাবিকভাবে সচল থাকলে প্রতি মাসে প্রায় ২০০ কোটি টাকার সার উৎপাদন হয়। এতে কারখানাটির লাভ থাকে প্রায় ৬০ কোটি টাকা।