খাগড়াছড়ির রামগড়ে কয়েক দশক ধরে বসবাস করছে গারো সম্প্রদায়ের লোকেরা। কিন্তু মৌলিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের। এছাড়া করোনার প্রভাবে অনটন ও নানামুখী সংকটে দিন পার করছে এখানকার ২৩টি গারো পরিবার।

সরেজমিনে দেখা যায়, বৃষ্টির পানিতে মাটি ও টিনের ঘরগুলো স্যাঁতসেঁতে হয়ে আছে। কাঁদামাখা উঠোনে ছোট ছোট শিশুরা খেলছে। কাজ না থাকায় পরিবারের প্রধানরা এখন অনেকটা ঘরেই সময় কাটাচ্ছে। সবার চোখেমুখে অভাব-অনটনের পাশাপাশি নিত্যদিনের নানামুখী সংকটের চিন্তা।

কথা হয় বৃদ্ধা রিজিনা মারাখ ও রেখোনা চামগোর সঙ্গে। অনেকটা আক্ষেপ ও অভিযোগ করে তারা বলেন, করোনায় এত মানুষ সহায়তা পেল। আমাদের ভাগ্যে এক কেজি চালও জোটেনি। আশপাশের অনেকেই সরকারি সুযোগ-সুবিধা পায়। কিন্তু কেউই আমাদের খোঁজ নেয় না। দিনমজুরি করে চলে সংসার। করোনা পরিস্থিতিতে এখন আর কাজে যেতে পারি না। আবার অনেকেই বয়সের কারণে কাজকর্ম করতে পারেন না।

রামগড় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বিশ্ব প্রদীপ কার্বারী বলেন, আর্থসামাজিক ও কর্মসংস্থানের উন্নয়নের জন্য কাজ করছে বর্তমান সরকার। তারই ধারাবাহিকতায় ২৩টি গারো পরিবারের ভাগ্যোন্নয়নে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও সহায়তা করা হচ্ছে তাদের।

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য, আওয়ামী লীগ নেতা ও জেলার সিনিয়র সিটিজেন মংক্যাচিং চৌধুরী বলেন, পার্বত্য জেলা পরিষদ পাহাড়ের সব সম্প্রদায়ের আর্থসামাজিক নিশ্চিতের পাশাপাশি নাগরিকদের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। এখানকার সাঁওতাল ও গারোদেরও এ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। আগামীতে তাদের উন্নয়নের পাশাপাশি সামাজিক সুবিধা নিশ্চিতে কাজ করা হবে।