ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। প্লাবিত হচ্ছে একের পর এক নতুন নতুন এলাকা। পানিবন্দি রয়েছে জেলার কয়েক হাজার মানুষ। এতে সুনামগঞ্জ সদর, বিশ্বম্ভরপুর, ছাতক, দোয়ারাবাজার, দিরাই ও শাল্লা উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাট ভেঙে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। জেলা সদরের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে অনেক উপজেলার। এদিকে ছাতক-সুনামগঞ্জ সড়কের দোয়ারাবাজার উপজেলার দোয়ালিয়া ইউনিয়নের প্রতাবপুর সেতু ধসে পড়েছে।
গতকাল সকালে সুরমা নদীর পানি বিপত্সীমার ১৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এছাড়া জেলার যাদুকাটা, মহাসিং, মনু, ধলাই, পিয়াইনসহ বিভিন্ন শাখা নদীর পানিও বিপত্সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, দিন দিন খারাপ অবস্থার দিকে যাচ্ছে জেলার বন্যা পরিস্থিতি। সেই সঙ্গে ঘন ঘন বজ্রপাতে নতুন আতঙ্ক তৈরি করেছে। এতে বিপাকে পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ। এছাড়া ঘরে-বাইরে পানি থাকায় অনেকেই নিজের ভিটা ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছে স্কুলগুলোয়। ঢলের পানিতে সুনামগঞ্জ সদরের ১৮টি, ছাতক উপজেলার ১৭২, দোয়ারাবাজার উপজেলার ২৪, তাহিরপুর উপজেলার পাঁচ ও শান্তিগঞ্জ উপজেলাসহ জেলার মোট ২২০টি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্লাবিত হয়েছে। বিদ্যালয়ে হাঁটুপানি থাকায় জেলার ২৮টি বিদ্যালয়ে সাময়িক পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে।
এদিকে ঢলের পানির স্রোতে মিনিটেই ভেঙে নিয়ে যায় দোয়ারাবাজার উপজেলা দোহালিয়া ইউনিয়নের প্রতাবপুর সেতু। এতে জেলা সদরের সঙ্গে ছাতকের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয়দের।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সামসুদ্দোহা বলেন, সব নদীর পানি বিপত্সীমার ওপর দিয়েই প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী ২৪ ঘণ্টা ভারতের মেঘালয়, চেরাপুঞ্জিতে ভারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বুধবার
কিছুটা পানি কমেছিল এখন আবার বাড়ছে। এভাবে পানি বাড়তে থাকলে সুনামগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হতে পারে।
জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, হাওরে মানুষের যেন কোনো কষ্ট না হয় সেদিকে প্রশাসন নজর রাখছে। এরই মধ্যে পানিবন্দি মানুষের মধ্যে শুকনো খাবার, নগদ টাকা, চাল বিতরণ করা হয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য সাড়ে ৪ লাখ নগদ টাকা, এক হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার এবং ২৫ টন চাল বিভিন্ন উপজেলায় পাঠানো হচ্ছে। এছাড়া সব উপজেলায় আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করছি। তাদের সহযোগিতা পাঠানো হবে।










