লালমনিরহাট রেলওয়ে স্টেশনের প্লাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকা বগিতে ইঞ্জিনের ধাক্কায় ট্রেনের ৫০ যাত্রী আহত হয়েছে। গতকাল সকাল ১০টার দিকে রেলওয়ে স্টেশনের ৪ নম্বর লাইনে এ ঘটনা ঘটে।
গুরুতর আহতাবস্থায় চারজনকে লালমনিরহাট বিভাগীয় রেলওয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। বাকিরা রেলওয়ের হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিয়েছে বলে জানিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। গুরুতর আহতরা হলেন শেফালি আক্তার (৪০), সামিনা খাতুন (৬২), নবিজুল ইসলাম (৬০) ও জাহেদুল ইসলাম।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুড়িমারী থেকে পার্বতীপুরগামী লোকাল ট্রেনটি লালমনিরহাট স্টেশনে যাত্রাবিরতি করছিল। এ সময় অন্য একটি ইঞ্জিন বগিগুলোর সঙ্গে সংযোগের উদ্দেশ্যে লোকোশেড থেকে এগিয়ে আসছিল। রেলওয়ের লোকোমাস্টার রাজ গোবিন্দ ইঞ্জিনটি চালাচ্ছিলেন। বগিগুলোর কাছাকাছি আসার সময় ইঞ্জিনটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বগিগুলোকে ধাক্কা দিলে বিকট শব্দ হয়। এতে বগির ভেতরে বসে থাকা অর্ধশত যাত্রী ছিটকে পড়ে আহত হয়।
দুর্ঘটনায় আহত শেফালি আক্তার বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম ইঞ্জিন বদলের সময় তেমন জোরে ধাক্কা দেয় না। কিন্তু কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই ইঞ্জিন প্রবল বেগে ধাক্কা দিলে আমি মাটিতে পড়ে গিয়েছিলাম। আমার মাথায় দুটি সেলাই দিতে হয়েছে।’
লালমনিরহাট বিভাগীয় রেলওয়ে হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মাহফুজ বলেন, ‘জরুরি বিভাগে গুরুতর চারজনকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। বাকিরা বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিয়েছেন।’
এ ব্যাপারে লোকোমাস্টার রাজ গোবিন্দ দাস বলেন, ‘ইঞ্জিনের ব্রেক লাগাতে দেরি হওয়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ইঞ্জিনের গতি ঘণ্টায় ১০ কিলোমিটার ছিল।’
এ ব্যাপারে রেলওয়ের লালমনিরহাট ডিভিশনাল মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার (লোকো) শাহিনুল হক অপু বলেন, ‘লোকোমাস্টারকে আপাতত আর কোনো ট্রেনের দায়িত্ব দেয়া হবে না। ঘটনা তদন্তে এরই মধ্যে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা প্রতিবেদন জমা দিলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’










