বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ডিম আমদানির অনুমতি দিলেও তাতে বাজারে প্রভাব পড়বে না বলে মনে করে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন। কারণ হিসেবে সরকারি এই সংস্থাটির দাবি, শুল্ক-কর মোট ৩৩ শতাংশ অব্যাহত রাখলে আমদানি করা ডিম দিয়ে স্থানীয় বাজারে দামের তেমন তারতম্য ঘটবে না। সেজন্য আমদানি পর্যায়ে কাস্টমস ডিউটি বা আমদানি শুল্ক (সিডি) ২৫ শতাংশ, নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক বা রেগুলেটরি ডিউটি (আরডি) ৩ শতাংশ এবং অগ্রিম আয়কর বা অ্যাডভান্সড ট্যাক্স (এআইটি) ৫ শতাংশ সম্পূর্ণ প্রত্যাহার চায় ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন।

মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) এ বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দিয়েছে সংস্থাটি।

চিঠিতে বলা হয়, গত ২৯ আগস্ট অত্যাবশ্যকীয় পণ্য পেঁয়াজ, আলু ও ডিম আমদানিতে শুল্ক-করাদি হ্রাস করতে একটি বিশ্লেষণাত্মক প্রতিবেদন পাঠানো হয়। প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী গত ৪ সেপ্টেম্বর এনবিআর আলু ও পেঁয়াজ আমদানিতে শুল্ক হ্রাস করেছে। অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ডিম আমদানিতে কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী শুল্ক ছাড়ের বিষয়ে এখনো কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। সম্প্রতি স্থানীয় বাজারে ডিমের পর্যাপ্ত সরবরাহে ঘাটতিজনিত কারণে এর দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে।

টিসিবির হিসাবে গত এক মাসে ডিমের স্থানীয় মূল্য ১৫ শতাংশ এবং এক বছরে ২০ দশমিক ৪১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলায় সাম্প্রতিক বন্যার কারণে পোল্ট্রি শিল্পের ক্ষতি হওয়ায় এবং পরিপূরক অন্যান্য খাদ্য পণ্যের দাম স্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজারে ডিমের সরবরাহ ব্যবস্থায় একধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় বাজারে সরবরাহ বৃদ্ধির জন্য দেশের পোল্ট্রির শিল্পের সুরক্ষা বিবেচনায় সুনির্দিষ্ট মেয়াদে শুল্ক ছাড়ের মাধ্যমে ডিম আমদানির অনুমতি দিলে পোল্ট্রি শিল্পের ওপর নেতিবাচক প্রভাবের সম্ভাবনা কম বলে কমিশন মনে করে। এছাড়া ডিম শর্তসাপেক্ষে আমদানিযোগ্য পণ্য হওয়ায় সরকারের অনুমতি ব্যতিরেকে ডিম আমদানি করা যায় না। গত বছরগুলোতে ডিম আমদানি না হওয়ার কারণে স্বল্প মেয়াদে এ শুল্ক-করাদি ছাড়ের ফলে সরকারের রাজস্ব ক্ষতিরও আশঙ্কা নেই।