প্রজনন মৌসুমে ইলিশ আহরণে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ১২টায়। ফলে উপকূলের জেলেরা নতুন উদ্যেমে নদী ও সাগরে যাওয়ার প্রস্ততি নিচ্ছেন। মা ইলিশের প্রজনন নিরাপদ করতে গত ৩ অক্টোবর শুরু হয় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা।
যদিও এবার নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে। ইলিশ ধরা বন্ধে অভিযানকারী দলের ওপর অন্তত ১৫টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। জেলেদের হামলা প্রতিরোধে পৃথক দুটি ঘটনায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে গুলি ছুড়তে হয়েছে বলেও খবর পাওয়া গেছে।
মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নিষেধাজ্ঞা শেষে রোববার (২৫ অক্টোবর) থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত নদী ও সাগরে ইলিশ আহরণে কোনো বিধি-নিষেধ থাকবে না। এরপর ১ নভেম্বর থেকে আবার শুরু হবে ৮ মাস জাটকা সংরক্ষণ অভিযান। এই ৮ মাস জাটকা ধরা নিষিদ্ধ থাকবে। আগামী বছর ৩০ জুন শেষ হবে জাটকা সংরক্ষণ অভিযান।
বরিশাল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রিপন কান্তি ঘোষ বলেন, ‘নিধোজ্ঞা কার্যকর করতে আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি। পুরোটা সফল হতে না পারলেও মোটামুটি সফল। শনিবার মধ্যরাতে নিষেধাজ্ঞা শেষ হবে। এরপরে গবেষকরা নদীতে পর্যবেক্ষণ করে নিশ্চিত হবেন, কী পরিমাণ মা ইলিশ নদীতে প্রজনন করতে পেরেছে। এর ওপর নির্ভর করবে আগামীতে কত পরিমাণ ইলিশ উৎপাদন হবে।’
বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়, মা ইলিশ রক্ষায় নিষেধাজ্ঞা শেষের একদিন আগে আজ (শুক্রবার) পর্যন্ত বরিশাল বিভাগে ৩ হাজার ৩৪৯টি অভিযান করেছে মৎস্য অধিদপ্তর। অভিযানে ৬ জেলায় মোট ৮ টন ৪০৫ কেজি ইলিশ জব্দ হয়। জাল উদ্ধার হয়েছে ১৩২ লাখ মিটার, মামলা দায়ের হয়েছে ১ হাজার ২৯৮টি, জরিমানা আদায় হয় ৩৭ লাখ টাকা। ইলিশ নিধনের দায়ে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে ৮৮৩ জন জেলেকে। তার মধ্যে বরিশাল জেলায় সর্বোচ্চ কারাদণ্ড দেয়া হয় ৫৪৬ জনকে।










