ধান ও চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে দিনাজপুরে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করলেও দাম কমেনি বলে জানিয়েছেন ভোক্তারা। উপরন্তু গত ২০ দিনে ৫০ কেজির বস্তায় ১০০ টাকা বেড়েছে। আর খুচরা পর্যায়ে কেজিতে বেড়েছে ২-৩ টাকা। তবে দিনাজপুর চালকল মালিকদের দাবি, চালের বাজার নির্ভর করে বাজারে ধানের দামের ওপর। ধানের দাম বাড়লে চালের দামও বাড়ে।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় এবং জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ জানুয়ারি থেকে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ এবং খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বিসিক শিল্পনগরী পুলহাট ছাড়াও বিরল, বোচাগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন অটো রাইস মিলে অভিযান চালায়। কিন্তু কোথাও অতিরিক্ত ধান বা চালের মজুদ পাওয়া যায়নি।
দিনাজপুর বিসিক পুলহাট বাণিজ্যিক এলাকায় খুচরা বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, ব্রি-২৯ জাতের ৫০ কেজি ওজনের প্রতি বস্তা চাল তারা মিল থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা দরে কিনছেন। প্রতি কেজি বিক্রি করছেন ৫৩-৫৫ টাকা দরে। নির্বাচনের আগে এ চালের দাম কেজিপ্রতি ২-৩ টাকা কম ছিল। গুটিস্বর্ণা এবং সুমন জাতের প্রতি ৫০ কেজি ওজনের বস্তা বর্তমানে ২ হাজার ৩৫০-২ হাজার ৪০০ টাকা দরে কিনে ৪৭ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন খুচরা বিক্রেতারা। নির্বাচনের আগে এই দুই জাতের চাল বস্তায় ১০০ টাকা কম ছিল।
গতকাল দিনাজপুর সদর উপজেলার শিকদারগঞ্জে চাল বাজারের খুচরা বিক্রেতা মো. রেজাউল ইসলাম, রবীণ চন্দ্র ও মো. মতিউর রহমান জানান, বর্তমানে ৫০ কেজি ওজনের এক বস্তা মিনিকেট চাল তার কিনছেন ২ হাজার ৯০০ টাকায়। আর প্রতি কেজি বিক্রি করছেন ৬০-৬১ টাকা। নির্বাচনের আগে এই চালের দাম বস্তাপ্রতি ২ হাজার ৮০০ টাকা ছিল। নির্বাচনের আগে ব্রি-২৮ চালের ৫০ কেজির বস্তা কিনছেন ২ হাজার ৭০০ টাকা দরে। প্রতি কেজি ২৮ চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকা দরে। নির্বাচনের আগে এই চালের দাম ছিল ২ হাজার ৬০০ টাকা। নির্বাচনের পর বস্তায় ১০০ টাকা আর কেজিতে ২ টাকা দাম বেড়েছে।
পুলহাট সোহা অটোরাইস মিলের মালিক মো. সাদেকুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বর্তমানে কৃষক অনেক বেশি সচেতন। বাজারে ধানের দাম কম দেখলে বিক্রি বন্ধ করে দেন। একান্ত প্রয়োজন ছাড়া বিক্রি করেন না। বাজারে সব পণ্যের দাম বেড়েছে, কিন্তু সেই তুলনায় চালের দাম কেজিপ্রতি ২-৩ টাকা বেড়েছে। এটা মিল মালিকের কারণে নয়, মানুষের স্বাভাবিক ক্রয়ক্ষমতা বাড়ার কারণে হয়েছে।’
দিনাজপুর চালকল মালিক গ্রুপের সভাপতি মো. মোসাদ্দেক হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বাজারে ধানের দাম বাড়লে চালের দাম বাড়বেই। ধানের দাম বাড়লে লাভ কৃষকের। অগ্রহায়ণ ও পৌষ মাসজুড়ে জেলায় আমন ধান কাটা ও মাড়াই হয়। অর্থাৎ দুই মাস আগে আমন ধান বাজারে এসেছে। দুই মাস আগে আমন ধান ওঠার সময় ধান ও চালের যে দাম ছিল সেই দাম বর্তমানে থাকার কোনো কারণ নেই। কারণ কাটার দুই মাস পর ধান শুকিয়ে যায়। এ কারণে দাম বেড়ে যায়।’










