এক বছর আগে দুটি ফেরি এনে রাখা হয়েছে ঘাটে। পন্টুন ও সংযোগ সড়ক প্রস্তুত করা হয়েছে বেশ আগেই। কিন্তু সব প্রস্তুতি থাকলেও লোকবল সংকটে ফেরি চলাচল শুরু হয়নি। ফলে বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় নদী পার হতে হচ্ছে কালিয়া ও লোহাগড়া উপজেলার তিন লক্ষাধিক মানুষকে। এ দৃশ্য নড়াইলের কালিয়া উপজেলার নবগঙ্গা নদীর মহাজন-বড়দিয়া ঘাটে। গুরুত্বপূর্ণ এ ঘাটে ফেরি চালু না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে। তারা বলছেন, সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের উদাসীনতার কারণে চালু হচ্ছে না ফেরি।

সরেজমিনে দেখা গিয়েছে, মহাজন খেয়াঘাটে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় গাদাগাদি করে যাত্রীরা নদী পার হচ্ছেন। এভাবে নদী পারে নারী ও শিশুরা বেশি ঝুঁকির মুখে পড়ছেন। মহাজন খেয়াঘাটের ১০০ ফুট উত্তরে উভয় পারের সংযোগ সড়ক প্রস্তুত আছে। মহাজন পারে পন্টুনের সঙ্গে দুটি সচল ফেরি বাঁধা রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, এক বছরের বেশি হয়ে গেল ফেরি দুটি এসেছে। পন্টুন ও সংযোগ সড়কও অনেক আগেই চলাচল উপযোগী। সওজ কর্মকর্তাদের অবহেলার কারণে আজও চালু হয়নি ফেরি।

এলাকাবাসী জানান, এ ঘাটে ফেরি চালু হলে নড়াইল থেকে অল্প সময়ে গোপালগঞ্জ ও খুলনা যাতায়াত করতে পারবেন লোহাগড়া এবং কালিয়া উপজেলার বাসিন্দারা। এছাড়া এক পারে নড়াইল সদর ও লোহাগড়া উপজেলা, অন্য পারে নড়াগাতি থানা ও কালিয়া উপজেলার মানুষের যাতায়াত অনেক সহজ হবে।

ওই ঘাটের পশ্চিম পারে মহাজন বাজার, পূর্ব পারে বড়দিয়া বাজার, এটি একসময় ছিল নৌ-বন্দর। এখনো আছে নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি। জেলার মধ্যে টিন বিক্রির সবচেয়ে বড় মোকাম এখানে অবস্থিত। বড়দিয়া ও মহাজন বাজার দুটি অন্তত ১৫ কিলোমিটারের মধ্যে সবচেয়ে বড়। ব্রিটিশ আমলে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী এ দুটি বাজারে কয়েকটি ব্যাংকের শাখা ও এনজিও কার্যালয় আছে। রয়েছে বড় খাদ্যগুদাম। আশপাশে রয়েছে মুন্সী মানিক মিয়া ডিগ্রি কলেজ, বড়দিয়া বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়, ফজিলাতুন নেছা মুজিব মাধ্যমিক বিদ্যালয়, টুনা ইসলামিয়া মাদ্রাসা ও মহাজন মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ অন্তত ২০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

স্থানীয় মাউলি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান রোজী হক বলেন, নবগঙ্গা ও মধুমতী নদীপরিবেষ্টিত এলাকাটি ঐতিহ্যবাহী জনপদ। নদীবন্দরের কারণে এক সময় আশপাশের জেলা থেকে এখানে বড় বড় ব্যবসায়ীরা মোকাম করতে আসতেন। সে ঐতিহ্য এখনো আছে। অনেক আগেই এখানে সেতু হওয়া উচিত ছিল। সেতু হয়নি, সওজ ফেরি চালু করতে প্রায় এক বছর আগে দুটি ফেরি আনে, তাও চালু হলো না।

স্থানীয় পলাশ শেখ জানান, এ ঘাটে ফেরি চালু না হওয়ায় গাড়ি পার করতে হলে ৪০ কিলোমিটার ঘুরে গোপালগঞ্জের চাপাইল সেতু বা কালিয়ার বারইপাড়া ফেরিঘাট দিয়ে আসতে হয়। দ্রুত অসুস্থ রোগী অ্যাম্বুলেন্সে নিতে হলে এভাবে ঘুরে গোপালগঞ্জ, খুলনা, নড়াইল ও ঢাকায় নিতে হয়।

বড়দিয়া বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জগদীশ চন্দ্র সরকার বলেন, উভয় পারের বড়দিয়া ও মহাজন ঐতিহ্যবাহী পুরনো বড় বাজার। ফেরি চালু না হওয়ায় পণ্যবাহী যানবাহন চলতে পারে না। এজন্য ওই ঘাটে শ্রমিক দিয়ে পণ্য নামিয়ে নৌকায় ওঠাতে হয়। এতে ভোগান্তি যেমন, আবার খরচও বাড়ে। এছাড়া উভয় পারেই নৌকার ঘাট খাড়া। তাই ওঠানামাও বিপজ্জনক। এ অবস্থায় দ্রুত ফেরি চালু করা দরকার।

কালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অরিফুল ইসলাম বলেন, ফেরি চালু না হওয়ায় জনগণের ভোগান্তি হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে সওজ বিভাগের সঙ্গে এর আগে কথা বলেছি, আবারো বলব।

সওজ নড়াইলের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুজ্জামান বলেন, এলাকাবাসীর ভোগান্তির কথা চিন্তা করে এরই মধ্যে দুটি ফেরি, পন্টুন ও সংযোগ সড়ক প্রস্তুত করা হয়েছে। লোকবল সংকটে ফেরি চালু করা যাচ্ছে না। কালনা সেতু চালু হলে সে লোকবল দিয়ে এ দুটি ফেরি চালুর চেষ্টা করব।