দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীন চলমান এসএসসি পরীক্ষার ইংরেজি প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। কুড়িগ্রাম জেলার ভুরুঙ্গামারীর নেহাল উদ্দিন পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে ঘটা এ ঘটনায় কেন্দ্র সচিবসহ তিনজনকে আটক করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে চলমান এসএসসির চারটি বিষয়ে পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করেছে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড। গতকাল বোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. কামরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীন চলমান ২০২২ সালের এসএসসি পরীক্ষার গণিত (১০৯), পদার্থবিজ্ঞান (১৩৬), কৃষিবিজ্ঞান (১৩৪) ও রসায়ন (১৩৭) বিষয়ের পরীক্ষা অনিবার্য কারণবশত স্থগিত করা হলো। এ পরীক্ষাগুলোর নতুন তারিখ যথাসময়ে জানানো হবে। তবে অন্য সব বিষয়ের পরীক্ষা রুটিনের সময়সূচি অনুযায়ী যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে। দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন সব এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রের সচিবকেই এ চিঠি দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বোর্ড।

এর আগে মঙ্গলবার কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলার একটি পরীক্ষা কেন্দ্রে ইংরেজি প্রথম ও দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠে। পরে ওইদিন সন্ধ্যায় দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. কামরুল ইসলাম, সচিব প্রফেসর মো. জহির উদ্দিন, কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম, পুলিশ সুপার আল আসাদ মো. মাহফুজুল ইসলাম, জেলা শিক্ষা অফিসার শামসুল আলমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ভুরুঙ্গামারী যান। কেন্দ্র সচিবের কক্ষ থেকে গণিত (আবশ্যিক), উচ্চতর গণিত, কৃষিশিক্ষা, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও জীববিজ্ঞানের প্রশ্নপত্রের প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে একটি প্যাকেট ছাড়া বাকিগুলোর মুখ খোলা ছিল। এ ঘটনায় বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিব লুত্ফর রহমান, ইংরেজি বিষয়ের সহকারী শিক্ষক রাসেল ইসলাম ও ব্যবসায় শিক্ষার শিক্ষক জোবায়েরকে পুলিশ আটক করে। জিজ্ঞসাবাদে তারা প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

এ ঘটনায় নেহাল উদ্দিন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা মো. আদম মালিক চৌধুরী মঙ্গলবার রাতেই বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। এতে আটক তিন শিক্ষক ছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরো ১০-১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। 

দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের সচিব প্রফেসর মো. জহির উদ্দীন এ বিষয়ে জানান, কুড়িগ্রামে প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে চারটি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। জড়িত কেন্দ্র সচিবসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে এরই মধ্যে মামলা হয়েছে। দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. কামরুল ইসলাম বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদন পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে এরই মধ্যে যেসব বিষয়ে পরীক্ষা হয়েছে সেগুলো আর বাতিল করা হবে না।