জামালপুরে চিকিৎসককে মারধরের ঘটনায় ডাকা ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে। গতকাল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবনের কনফারেন্স রুমে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির বিশেষ সভায় জেলা ও পুলিশ প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে এ ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়। একই সঙ্গে চিকিৎসকদের চার দফা দাবি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের আশ্বাস দেয়া হয়। ধর্মঘট প্রত্যাহার হওয়ায় জেলার সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে পুরোদমে চিকিৎসাসেবা শুরু হয়েছে।
জামালপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ ইঞ্জিনিয়ার মো. মোজাফফর হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল হক, পুলিশ সুপার মো. দেলোয়ার হোসেন, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিব) জামালপুর জেলার আহ্বায়ক ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মোশায়ের উল ইসলাম রহমান রতন, জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মো. মাহফুজুর রহমান, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক আহম্মেদ চৌধুরী, পৌর মেয়র আলহাজ মির্জা সাখাওয়াতুল আলম মনি, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ ছানোয়ার হোসেন ছানু, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ মাসুম রেজা রহিম প্রমুখ।
স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিব) জামালপুর জেলার আহ্বায়ক ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মোশায়ের উল ইসলাম রহমান রতন জানান, আলোচনা সভায় চিকিৎসকদের চার দফা দাবি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছেন জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতারা। তাই আমরা ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছি।
জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মো. মাহফুজুর রহমান জানান, ধর্মঘট প্রত্যাহার হওয়ায় জেলার সরকারি-বেসরকারি সব হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবা পুনরায় চালু হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২৫ ডিসেম্বর এক নারী রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় রোগীর স্বজনরা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে হামলা-ভাংচুর ও কর্তব্যরত চিকিৎসককে মারধর করেন। এ সময় সদর উপজেলার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপর পুলিশ নির্যাতন করেছে এমন দাবি করে সদর থানার ওসিকে প্রত্যাহার ও দোষীদের শাস্তিসহ চার দফা দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন জামালপুরের সব চিকিৎসক।
অন্যদিকে চিকিৎসকদের অবহেলায় রোগীর মৃত্যু, রোগীর স্বজনদের ওপর হামলা এবং মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে শহরের বকুলতলায় সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে মৃত রোগীর স্বজন ও প্রতিবেশীরা। গত মঙ্গলবার দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত শহরের বকুলতলা চত্বরে জামালপুরবাসীর ব্যানারে এ বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
এদিকে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় সাত সদস্যবিশিষ্ট গঠিত তদন্ত কমিটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল হকের কাছে ৪৬ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন দাখিল করেছে।










