পূর্ব মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় মোখা উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর ও আরো ঘনীভূত হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে। এটি শনিবার (১৩ মে) দুপুর বারোটায় পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ৬৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল। এর প্রভাবে উত্তাল হয়ে উঠেছে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর। সাগর উত্তাল থাকায় পর্যটকদের সমুদ্রে নামায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে প্রশাসন। সকাল থেকেই পর্যটকদের সরাতে তৎপর দেখা গিয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ ও থানা পুলিশ সদস্যদের। ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানার খবরে আতঙ্ক বিরাজ করছে উপকূলজুড়ে।


মোখার প্রভাবে কুয়াকাটাসহ উপকূলীয় এলাকা স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৫ থেকে ৭ ফুটের বেশি উচ্চতর জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে। তাই পটুয়াখালীর পায়রা সমুদ্র বন্দরকে আবারও ৮ নম্বর মহাবিপৎসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। মৎস্য বন্দর আলিপুর মহিপুরের সকল মাছধরা ট্রালারকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে।


ঘূর্ণিঝড় মোখা মোকাবেলায় ৭০৩টি আশ্রয় কেন্দ্র, ২৬টি মুজিব কেল্লা, ৮ হাজার ৭০০ সিপিপির সদস্য ও নগদ টাকা এবং শুকনো খাবার মজুদ রেখেছে জেলা প্রশাসন। মোখা মোকাবেলায় একটি কন্ট্রোল রুম খুলেছে পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ। এর আগে তারা ঘূর্ণিঝড় সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটি ও এ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটি গঠন করেছে। 


পায়রা বন্দরের ট্রাফিক বিভাগের উপ-পরিচালক আজিজুর রহমান বলেন, আমাদের কন্ট্রোল রুম সার্বক্ষণিক খোলা রয়েছে। এরই মধ্যে আমাদের বন্দরের চ্যানেলে থাকা ৩টি মাদার ভ্যাসেল ও বেশ কিছু লাইটার নিরাপদে গভীর সমুদ্রে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। ঘূর্র্ণিঝড় মোখা মোকাবেলায় আমরা প্রস্তুত রয়েছি।


ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা রিজিওনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, সমুদ্র বেশ উত্তাল। তাই পর্যটকরা যাতে সমুদ্রে না নামতে পারেন সেজন্য টহল জোরদার করেছি। একটু পর পর মাইকিং করা হচ্ছে। সমুদ্র এলাকায় ট্যুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি থানা পুলিশও কাজ করছে।