নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগে ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সনকে কারণ দর্শানোর নোটিস (শোকজ) দিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। গতকাল তাকে নোটিসটি পাঠানো হয়েছে।
রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. জিয়াউল হক খান এতে উল্লেখ করেছেন, সদরপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. শহিদুল ইসলামের (আনারস প্রতীক) বিপক্ষে এমপির একটি অডিও/ভিডিও ক্লিপের বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রচার হয়েছে। এছাড়া ভাঙ্গা উপজেলা পরিষদ নির্বাচন-২০২৪ উপলক্ষে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. মোখলেছুর রহমান (ঘোড়া প্রতীক) এমপির বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের একটি অভিযোগ করেছেন। উপজেলা পরিষদ (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালা, ২০১৬-এর বিধি-২-এর উপবিধি (১৪) অনুযায়ী এমপি ‘সরকারি সুবিধাভোগী অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি।’ বিধি-২২-এর উপবিধি (১) ও (২) অনুযায়ী সরকারি সুবিধাভোগী অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি নির্বাচনপূর্ব সময়ে নির্বাচনী এলাকায় প্রচার বা নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন না। বিধি-২২-এর উপবিধি (১) ও (২) এবং বিধি ১৮ অনুযায়ী এবং অন্যান্য প্রাপ্ত নথিতে আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ অবস্থায় কেন নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন, এর সুনির্দিষ্ট লিখিত ব্যাখ্যা আজ বিকাল ৪টার মধ্যে উপজেলা নির্বাচনী কর্মকর্তা, ভাঙ্গা সদরপুর ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে দাখিল করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। অন্যথায় এমপির বিরুদ্ধে এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে জানানো হবে।
এদিকে গতকাল দুপুরে এমপির বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ভয়ভীতি ও হুমকি দেখানোর অভিযোগ এনেছেন সদরপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বাবুল। ফরিদপুর প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমার ৬৮টি কেন্দ্রের নেতা-কর্মীদের ওপর প্রচণ্ড চাপ, তাদের হুমকি দিচ্ছে। আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হচ্ছে। আমার নেতা-কর্মীরা ভীতসন্ত্রস্ত। আমি এখন টিকে থাকতে পারছি না।’
নিক্সন চৌধুরীর বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ করে শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, ‘স্থানীয় চেয়ারম্যান, প্রতিদ্বন্দ্বী চেয়ারম্যান ও প্রাক্তন চেয়ারম্যানরা, এমপির লোকরা হুমকি দিচ্ছে প্রকাশ্যে সিল মেরে দেবে। কোনো এজেন্ট ঢুকতে দেবে না। এমপি নিজেই বলছেন, আমাকে ৬৮টি কেন্দ্রে এজেন্ট দিতে দেবেন না। তার এ বক্তব্যের ফলে তার নেতাকর্মীরা এত উৎসাহিত হয়েছে যে আমার জীবন এখন হুমকির মুখে।’
তিনি বলেন, ‘মনোনয়নপত্র দাখিলের পর ২১ মে নিক্সন চৌধুরী আমার বাড়িতে আসেন। এ সময় শত শত লোকের সামনে তিনি আমাকে তার গাড়িতে তুলে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিতে বাধ্য করেন। পরে জনগণের দাবির মুখে আবার নির্বাচনের মাঠে ফিরে আসি।’
শহিদুল ইসলাম বাবুল অভিযোগ করেন, ‘২৫ মে নিক্সন চৌধুরী তার নির্বাচনী এলাকার বাসভবনে নির্বাচনী সভা করেন। সেখানে শুধু তিনি না, তার অনুসারী ইউপি চেয়ারম্যানরাও ঘোষণা দেন ৬৮টি ভোট কেন্দ্রের একটিতেও আমাকে এজেন্ট দিতে দেবেন না।’
তবে সংসদ সদস্য নিক্সন চৌধুরী অভিযোগ সত্য নয় দাবি করে সাংবাদিকদের বলেন, ‘ভোটে হেরে যাবে জেনেই তারা সংবাদ সম্মেলন করে এসব উল্টাপাল্টা কথা বলছে। ২৫ মে তো আমি ঢাকায় ছিলাম, তাহলে মিটিং করলাম কীভাবে?’
উল্লেখ্য, তফসিল অনুযায়ী আগামীকাল সদরপুর উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।










