প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বর্তমান সরকার মেধানির্ভর, আত্মবিশ্বাসী, সৃজনশীল ও দায়িত্ববান মানবসম্পদ গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর। তিনি আরো বলেন, প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়তে সব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে মেধাভিত্তিক দক্ষ ও জনবান্ধব জনপ্রশাসন গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।
আজ শনিবার সকালে রাজধানীর নিউ ইস্কাটনে বিয়াম ফাউন্ডেশনের তৃতীয় ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর দেশের স্বাধীনতাপ্রিয়, গণতন্ত্রপ্রিয় জনগণ নিজেরা সরাসরি ভোট দিয়ে একটি গণতান্ত্রিক সরকার নির্বাচিত করেছে। দীর্ঘদিন ধরে একটি জবাবদিহিমূলক, ন্যায়ভিত্তিক ও জনকল্যাণমুখী শাসন ব্যবস্থার প্রত্যাশায় থাকা সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হচ্ছে বর্তমান সরকার। ২০২৪ এর জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান আবারও স্পষ্ট করে দিয়েছে এ রাষ্ট্রের মালিক জনগণ। সুতরাং জনপ্রশাসনের কর্মকর্তা হিসেবে রাষ্ট্রের মালিক জনগণের স্বার্থ এবং কল্যাণ নিশ্চিত করা আপনাদের প্রধান দায়িত্ব।
তিনি বলেন, দেশ এবং জনগণের কাছে আমরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসেছি- এসব স্রেফ রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নয়, বরং জনগণের সঙ্গে করা আমাদের চুক্তি। জনগণ আমাদের ইশতেহারের পক্ষে রায় দিয়েছে। সুতরাং বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার নির্বাচনী ইশতেহার এবং জনগণের সামনে স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের প্রতিটি দফা, প্রতিটি অঙ্গীকার অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করতে সরকার বদ্ধপরিকর। আমি আশা করি আপনারা আপনাদের মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে জনগণের কাছে দেয়া সরকারের প্রতিটি প্রতিশ্রুতি, দক্ষতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করতে ভূমিকা রাখবেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণ আমাদের ওপর যে আস্থা রেখেছে, সেই আস্থার মর্যাদা রক্ষা করতে হলে প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং নৈতিকতার দৃঢ় চর্চা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকার ‘মেরিটোক্রেসির বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। রাষ্ট্রযন্ত্রে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে মেধা, সততা, সৃজনশীলতা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতাই হবে প্রধান বিবেচ্য। স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সঙ্গে শূন্য পদে সরকারি কর্মচারী নিয়োগ, প্রশাসনিক সংস্কার কমিশন গঠন, শক্তিশালী পাবলিক সার্ভিস কমিশন গঠন এবং বেসরকারি সার্ভিস রুলস প্রণয়নসহ সর্বত্র প্রশাসনিক কাঠামোর কার্যকারিতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
বিশ্ব এখন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের যুগে প্রবেশ করেছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদেরও সময়ের সঙ্গে মোকাবেলায় নিজেদেরকে প্রস্তুত রাখা জরুরি। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এই যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অটোমেশন এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার আমাদের প্রশাসনকে আরো দক্ষ, স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিমূলক করে তুলবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের উন্নয়ন দৃষ্টিভঙ্গি হতে হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক, টেকসই এবং মানবিক। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে উন্নয়নের সুফল সমাজের প্রতিটি স্তরে পৌঁছাবে, বৈষম্য কমে আসবে এবং একপর্যায়ে সম্পূর্ণ দূরীভূত হবে। নারী ও যুবসমাজ উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে এবং পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু সহনশীলতা আমাদের প্রতিটি নীতির অংশ হবে।
অনুষ্ঠানে সরকারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, মন্ত্রিসভার সদস্য এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।










