হাওরাঞ্চলের মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় আসন্ন বোরো মৌসুমে বালাইনাশক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় কমিটির দ্বিতীয় সভায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। তিনি বলেন, অনিয়ন্ত্রিত বালাইনাশক ব্যবহার হাওরাঞ্চলের মাছ, গবাদিপশু ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। তাই বালাইনাশক ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ ও বিকল্প পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি গ্রহণ জরুরি।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আসন্ন বোরো মৌসুমে হাওর অধ্যুষিত সাতটি জেলায় বালাইনাশক বিক্রয় নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কমিটির মাধ্যমে কৃষিখাতে বালাইনাশক ব্যবহারের ওপর নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা হবে।

সভায় সিদ্ধান্ত হয় বালাইনাশকের বোতল ও প্যাকেটে সহজ ও স্পষ্ট বাংলায় ব্যবহার নির্দেশিকা সংযুক্ত করে বাজারজাত করা হবে। পাশাপাশি হাওর অধ্যুষিত কৃষকদের নিরাপদ বালাইনাশক ব্যবহার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। ক্ষতিকর রাসায়নিকের পরিবর্তে জৈব বালাইনাশক, আইপিএম ও জিএপি কার্যক্রম জোরদার করা হবে। হাওরাঞ্চলে বালাইনাশক নিয়ন্ত্রণে একটি সমন্বিত ‘অ্যাকশন প্ল্যান’ আগামী ৩১ জানুয়ারি ২০২৬-এর মধ্যে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্তও নেয়া হয়।

সভায় পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মোকাব্বির হোসেন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাইদুর রহমান, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য মুহাম্মদ মুবিনুল কবীর বক্তব্য রাখেন।