চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম করেরহাট ইউনিয়নের পশ্চিম সোনাই। এ গ্রামে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস। তথ্যপ্রযুক্তির উৎকর্ষের যুগেও এ গ্রামে সুপেয় পানির অভাবের পাশাপাশি রয়েছে সেলফোনের নেটওয়ার্কসহ বিভিন্ন সমস্যা। অন্তহীন সমস্যার মধ্যেও এ গ্রামের মানুষ সম্প্রতি একটি সংবাদে উচ্ছ্বসিত। আর সেটি হলো স্থানীয়দের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত কয়লা পশ্চিম সোনাই উচ্চ বিদ্যালয়টি সরকারিভাবে পাঠদানের অনুমোদন পেয়েছে। 

প্রতিষ্ঠার পর থেকে একটি টিনশেডে এ বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম চলে আসছে। দীর্ঘ ২৮ বছরের ব্যবধানে টিনশেডের ঘরটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। নষ্ট হয়ে গেছে টিনের চালা ও বেড়া। বৃষ্টি হলে শ্রেণীকক্ষে পানি পড়ে। এতে কাঁচা এ ঘরটি পাঠদানের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। 

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৫ সালে করেরহাট ইউপি সদস্য মহিউদ্দিন এলাকার শিক্ষানুরাগীদের সঙ্গে নিয়ে গ্রামের নামের সঙ্গে মিল রেখে কয়লা পশ্চিম সোনাই উচ্চ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে স্থানীয়দের মাঝে শিক্ষা গ্রহণের আগ্রহ বাড়তে শুরু করে। বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার আগে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে করেরহাট কেএম উচ্চ বিদ্যালয়ে যেতে হতো। এতে সময়ের পাশাপাশি প্রত্যেক শিক্ষার্থীর দৈনিক খরচ হতো প্রায় ২০০ টাকা, যা ওই এলাকার সবার পক্ষে বহন সম্ভব হতো না। বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা হলেও পাঠদানের অনুমোদন না থাকায় জেএসসি পরীক্ষার্থীরা অন্য বিদ্যালয় থেকে অংশগ্রহণ করত। অবশেষে প্রতিষ্ঠার ২৮ বছর পর সম্প্রতি বিদ্যালয়টি সরকারিভাবে পাঠদানের অনুমোদন পেয়েছে। এতে এলাকার শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের মাঝে উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। 

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘কয়লা পশ্চিম সোনাই উচ্চ বিদ্যালয়টি সম্প্রতি সরকারিভাবে পাঠদানের অনুমোদন পেয়েছে। তবে একটি ভবন জরুরিভাবে প্রয়োজন। ভাঙ্গা বেড়ার টিনশেডের চার কক্ষে অনেক কষ্টে শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে।’

বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোক্তা ও স্থানীয় ইউপি সদস্য মহিউদ্দিন বলেন, ‘এলাকার মানুষের বিশেষ করে মেয়েদের কথা চিন্তা করে আমি বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেই। যেন মেয়েদের বাল্যবিবাহ রোধ করা যায়। বিদ্যালয়টি সরকারিভাবে পাঠদানের অনুমোদন পেয়েছে। এখন জরুরি ভিত্তিতে একটি পাকা ভবন বরাদ্দের দাবি জানাই।’ 

কয়লা পশ্চিম সোনাই উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ফজলুল করিম বলেন, ‘আশপাশের ১০ কিলোমিটারে মধ্যে কোনো উচ্চ বিদ্যালয় নেই। বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার ২৮ বছর পর অবশেষে সরকারিভাবে পাঠদানের অনুমোদন পাওয়া গেল। তবে একটি ভবন বরাদ্দ পেলে পাঠদানের পরিবেশ আরো বেগবান হবে।’ 

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হুমায়ূন কবির খান বলেন, ‘কয়লা পশ্চিম সোনাই উচ্চ বিদ্যালয়টি প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থিত। তাই উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করা হয়। আশা করি ক্রমান্বয়ে ভবনসহ সব ধরনের সংকট দূর হবে।’