আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় দিনাজপুরের হিলিতে পানের ফলন ভালো হয়েছে। তবে ক্রেতা সংকটে পড়েছেন চাষীরা। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে আশপাশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করলেও এবার ক্রেতা কম থাকায় প্রত্যাশিত দামও মিলছে না। পাশাপাশি বেড়েছে উৎপাদন খরচ। সব মিলিয়ে লোকসানের মুখে পড়েছেন চাষীরা।

হিলির খট্টামাধবপাড়া ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী মংলা গ্রামের কৃষকদের আয়ের মূল উৎস হলো পান চাষ। এখানে বিঘার পর বিঘা জমিতে কয়েকশ চাষী দীর্ঘদিন ধরেই পান আবাদ করে আসছেন। এতদিন পানের চাহিদার সঙ্গে দামও ভালো পেয়েছেন। লাভজনক হওয়ায় দিন দিন বাড়ছিল আবাদটি। তবে এ বছর ফলন ভালো হলেও প্রত্যাশিত দাম মিলছে না।

চাষীরা বলছেন, গত বছর প্রতি পোয়া (৪০ বিড়া) মোটা পান ৪-৫ হাজার টাকা বিক্রি হয়েছে। বর্তমানে সেই পান ১ হাজার ২০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। আর চিকন পান বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা। এরপরও ক্রেতা সংকট।

মংলা গ্রামের পানচাষী মরফিদুল ইসলাম বলেন, ‘একে তো পানের দাম কম। তার ওপর ক্রেতা সংকট দেখা দিয়েছে। বরজ থেকে এক পোয়া পান সংগ্রহ করতে শ্রমিককে দিতে হয় ২০০ টাকা। চিকন পানের দাম না থাকায় অনেক সময় হাটে ফেলে রেখে আসতে হয়। সব ধরনের উপকরণের দাম বেশি কিন্তু পানের দাম কম। বরজ টিকিয়ে রাখতে ভর্তুকি দিতে হচ্ছে।’

হাকিমপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরজেনা বেগম বলেন, ‘উপজেলায় ৪০ হেক্টর জমিতে পান চাষ হয়। মূলত উপজেলার খট্টামাধবপাড়া ইউনিয়নেই পান চাষ সবচেয়ে বেশি হয়। তবে লাভজনক হওয়ায় উপজেলার বোয়ালদাড় ইউনিয়নেও কৃষক পান চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। পান চাষ বাড়াতে কৃষকদের প্রশিক্ষণসহ সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে। তবে পানের বরজ পাঁচ-সাত বছর পর অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার দরকার হয়। এটি কিন্তু অধিকাংশ কৃষক করেন না। ভালো ফলন পেতে আমরা কৃষকদের সেই পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। পানের দামের বিষয়টি দেখে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর। তবে তাদের উপজেলা পর্যায়ে কর্মকর্তা নেই।’