বাহারাম
বাদশা (৫৫) নামে এক কয়েদির মৃত্যুর
ঘটনায় রংপুর কারাগারে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, কয়েদি ও কারারক্ষীদের মারধরে
তার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় উত্তেজিত
কয়েদিরা বিক্ষোভ করেন। পরে প্রধান ফটক ভাংচুর করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ফাঁকা গুলি ছোড়েন কারারক্ষীরা। অবস্থা বেগতিক হলে সেনাবাহিনী, র্যাব
ও পুলিশ সদস্যরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ঘটনা তদন্তে
রংপুর জেলা প্রশাসনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার আব্দুল কাইয়ুম খানকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কারাগার সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সকাল ৮টার দিকে কারাগারের ভেতরের গাছ থেকে আমড়া পাড়েন কয়েদি বাহারাম বাদশা। এ সময় পরিচ্ছন্নতার দায়িত্বে থাকা আরেক কয়েদি রফিকুল ইসলামের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে রফিকুলকে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন বাহারাম। কিছুক্ষণ পর রফিকুল ও আমিনুল নামে দুই কয়েদি বাহারামকে মারধর করেন। এটি দেখে কারারক্ষী শাহজাহান ও মোতালেব উভয় পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। বাহারামকে মারধরও করেন। এতে বাহারামের অবস্থা গুরুতর হলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
দুপুর ১২টার দিকে বাদশার মৃত্যুর খবর কারাগারে ছড়িয়ে পড়লে কয়েদিরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। দুপুরে গোসলের সময় কয়েদিরা একত্রিত হয়ে কারারক্ষীর বিচার দাবিতে বিক্ষোভ করেন। উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে কারারক্ষীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফাঁকা গুলি ছোড়েন। এক পর্যায়ে তারা কারগারের প্রধান ফটকের তালা ভেঙে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কারা কর্তৃপক্ষ অবস্থা বেগতিক দেখে সেনাবাহিনী, র্যাব ও পুলিশে খবর দেয়।
পরে সেনাবাহিনীর ৬৬ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল সাকিল আহমেদ, রংপুর বিভাগীয় কমিশনার জাকির হোসেন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোবাশ্বের হাসান, পুলিশ সুপার মো. শাহাজাহান, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার আবু বকর সিদ্দিক ঘটনাস্থলে আসেন। তারা কয়েদি ও কারারক্ষীদের কাছে ঘটনা শোনেন। এ সময় বাদশা হত্যার বিচার দাবি, কারাগারে নিম্নমানের খাবার সরবরাহ, টাকা ছাড়া সেবা না মেলাসহ কারা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তুলে ধরেন কয়েদিরা। তাদের সঙ্গে প্রায় সাড়ে ৩ ঘণ্টা আলোচনা করেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোবাশ্বের হাসান বলেন, ‘দুপুর ১২টার দিকে কারাগারে উত্তেজনা দেখা দেয়। কয়েদিদের কেউ কেউ লাঠিসোঁটা নিয়ে নিরাপত্তা দরজা ভেঙে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে কারারক্ষীরা ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। সেনাবাহিনীসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কারাগারে এসে নিরাপত্তা জোরদার করেন। সেনাবাহিনীর জিওসি, রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কাছে কয়েদিরা বাহারাম হত্যার বিচার চেয়েছেন। সেই সঙ্গে কারাভ্যন্তরে যে অসংগতি রয়েছে সেগুলোর সমাধান চেয়েছেন। আমরাও তাদের যৌক্তিক দাবিগুলো বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছি।’
কারারক্ষীদের মারধরে বাহারামের মৃত্যুর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বাহারামকে রফিকুল ও আমিনুল আগে মারধর করেছেন। এরপর দুই কারারক্ষী তাকে মারধর করেছেন। কারাক্ষীদের মারধরেই তার মৃত্যু হয়েছে কিনা তা বলা যাচ্ছে না। তদন্ত শেষে বোঝা যাবে।’










