শ্রাবণের বৃষ্টি আর সেচ দিয়ে বগুড়া অঞ্চলের চাষীরা আমন চাষে মাঠে নেমেছেন। মাঠে মাঠে চাষীরা এখন আমন চাষে পুরো ব্যস্ত সময় পার করছেন। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, জেলায় এ বছর প্রায় ২ হাজার ১১০ হেক্টর আমন চাষের জমি বেড়েছে। শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূল থাকলে চাল আকারে সাড়ে পাঁচ লাখ টন ফলন পাওয়া যাবে।

জানা যায়, চলতি বছর বগুড়ার যমুনা নদীতে পানি বেড়ে অসময়ে বন্যা দেখা দেয়। সপ্তাহখানেক বন্যা স্থায়ী হওয়ার পর পানি নেমে যাওয়ায় ও শ্রাবণের বৃষ্টির পানিতে আমন চাষ শুরু করেছেন চাষীরা। তবে উঁচু জমিতে সেচ দিতে হচ্ছে। বগুড়ার সদর উপজেলা, শেরপুর, নন্দীগ্রাম, গাবতলী ও শিবগঞ্জ উপজেলাসহ ১২ উপজেলায় আমন চাষ পুরোপুরি শুরু হয়েছে।

বগুড়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, উত্তরের জেলাগুলোর মধ্যে বগুড়া একটি কৃষিপ্রধান এলাকা। ধান, পাট, সবজি, মরিচ, ভুট্টা, আলু, সরিষার জন্য বগুড়া কৃষি ক্ষেত্রে বরাবরই অবদান রাখছে। এবারো আমন চাষে মাঠে নেমেছেন চাষীরা। ২০২১ সালে জেলায় ১ লাখ ৮০ হাজার ৮৪০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর বিপরীতে ফলন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৯৫ হাজার ৬৮৩ টন। ২০২০ সালে ১ লাখ ৭৯ হাজার ২৬৮ হেক্টর জমিতে আমন চাষের পর মোট ফলন পাওয়া যায় ৫ লাখ ১৭ হাজার ২৩০ টন। কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, চলতি বছর আমনের চাষের জমি বেড়েছে। এ বছর আমনের চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৮২ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে। বিপরীতে ফলন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৫১ হাজার ৮১৩ টন। সব মিলিয়ে চলতি বছর চাষের জমি বেড়েছে দুই হাজার ১১০ হেক্টর জমিতে।

কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, জেলায় এ বছর বন্যার কারণে চাষীরা অন্য কোনো ফসল ফলাননি। বন্যার পানি কমে যাওয়ার কারণে সেসব জমিতে এবার আমন চাষ হচ্ছে। সে কারণে জেলার সারিয়াকান্দি, ধুনট ও সোনাতলা উপজেলার চাষীরা এবার যমুনা নদীর চর ও নদী এলাকায় আমন চাষের কারণে চাষের জমি বেড়েছে। জমি বেড়ে যাওয়ার কারণে ফলনও লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। গত ১৫ জুলাই থেকে আমন বীজ বপন শুরু হয়েছে।

বগুড়া সদরের মাটিডালি, সাবগ্রাম, শ্যামবাড়িয়া, দ্বিতীয় বাইপাস সড়ক, বারপুর ফুলবাড়ী এলাকাসহ বেশকিছু এলাকায় আমনচাষীদের মাঝে ব্যস্ততা দেখা গেছে।

বগুড়ার কাহালু উপজেলার প্রতাপপুরের আব্দুল বাছেদ জানান, চলতি মৌসুমের আমন চাষ শেষ করেছেন। তার প্রায় এক বিঘা জমিতে সেচ দিতে হয়নি। বৃষ্টির পানিতে নির্ভর করেই তিনি চাষ শেষ করেছেন। তার প্রায় ৬ হাজার টাকা খরচ হয়েছে জমি চাষ করতে। তিনি আশা করছেন, গত বছরের মতো এ বছরও ভালো ফলন পাবেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক এনামুল হক জানান, জেলায় এবার ১ লাখ ৮২ হাজার ৯৫০ হেক্টর জামিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সব ঠিক থাকলে এবার আমনের বাম্পার ফলন হবে। বিভিন্ন সরু উচ্চফলশীল ধান জাতের ব্রি-ধান  ৮৭, ব্রি-ধান ৭৫, বিনা ধান-১৭সহ অনেক জাতের ধান রোপণ করা হচ্ছে। জাতগুলোয় বিঘা প্রতি গড় উৎপাদন ১৫-১৬ মণ। এ জাতের ধান আগাম চাষ হয়ে থাকে।

কৃষি কর্মকর্তা আরো জানান, এবার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা  হয়েছে ৫ লাখ ৫১ হাজার টনের অধিক (চাল আকারে)। এ পর্যন্ত জেলায়  কৃষক ৪০ শতাংশ জমিতে আমন রোপণ করেছেন। 

বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. দুলাল হোসেন জানান, গত বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি ফলন পাওয়া গিয়েছিল। এ বছর বৃষ্টির পানি ও সেচ দিয়ে প্রায় ৪০ শতাংশ জমিতে আমন চাষ শেষ হয়েছে। আরো কয়েক দিন সময় আছে। বর্তমানে পুরো দমে আমন চাষ হচ্ছে। এ বছরও ফলন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।