লালমনিরহাটের দুই ভাষা সৈনিকের বাড়িতে গিয়ে তাদের হাতে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা তুলে দিয়েছেন জেলা প্রশাসন। দুই ভাষা সৈনিক হলেন, আদিতমারী উপজেলার সাপ্টিবাড়ী ইউনিয়নের বাসিন্দা ভাষা সৈনিক আব্দুল কাদের ভাষাণী এবং সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. জহির উদ্দিন আহমেদ।

আজ রবিবার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবসে দুপুরে এই দুই ভাষা সৈনিকের বাড়িতে গিয়ে উপস্থিত হন প্রশাসক আবু জাফরসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা। এ সময় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট টিএমএ মমিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রাশেদুল হক প্রধান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উত্তম কুমার রায়, নেজারত ডেপুটি কালেক্টর টিএম রাহসিন কবিরসহ অন্যান্য কর্মকর্তারাও তার সঙ্গে ছিলেন। 

এ সময় এই ভাষা সৈনিকের প্রতিবেশীরাও জড়ো হন। এবারই প্রথম জেলা প্রশাসন ভাষা সৈনিকদের বাড়িতে গিয়ে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা তুলে দিল। তাদের হাতে একটি ফুলের তোরা ও লালমনিরহাটের কাকিনায় তৈরি তাতের দুটি শাল উপহার দেওয়া হয়।    

বাড়ির উঠোনে গাড়ির বিশাল বহর দেখে ভাষা সৈনিক জহির উদ্দিন আহমেদ সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘এই প্রথম জেলা প্রশাসন আমার মতো একজন নগণ্য ব্যক্তির বাড়িতে উপস্থিত হয়ে আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহীদ দিবস উপলক্ষ্যে শ্রদ্ধা জানাতে এসেছে। এতে আমরা গর্বিত। এজন্য সরকারের প্রতিও আমি কৃতজ্ঞ। তবে আমার জীবনের শেষ চাওয়া যেন ক্যান্সার গবেষণায় আমাকে সরকার কাজে লাগায়।’

এরপর জেলা প্রশাসক আবু জাফরের নেতৃত্বাধীন গাড়ি বহরটি লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার সাপ্টিবাড়ী ইউনিয়নের খাতাপাড়া এলাকার বাসিন্দা ভাষা সৈনিক আব্দুল কাদের ভাষাণীর বাড়িতে গিয়ে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা হাতে তুলে দেন। তিনি জেলা প্রশাসক আবু জাফরকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘আমার চাওয়া, যেন সর্বত্র বাংলা ভাষার ব্যবহার করা হয়। এতে করে যারা ভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছেন তাদের আত্মা শান্তি পাবে। কেননা, পৃথিবীতে একমাত্র বাংলা ভাষার জন্যই লড়াই হয়েছে। অনেককেই জীবন দিতে হয়েছে।’  

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবু জাফর বলেন, ‘যাদের জন্য আমরা বাংলা ভাষা পেয়েছি। তাদের প্রতি সম্মান জানাতেই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা জানিয়েছি। এতে বাংলা ভাষার গুরুত্ব ও মমত্ববোধ বোঝাতে জেলা প্রশাসনে কর্মরত নবীন কর্মকর্তাসহ সকলকে সাথে নিয়ে লালমনিরহাটের জীবিত দুই ভাষা সৈনিক জহির উদ্দিন আহমেদ ও আব্দুল কাদের ভাষানীর বাড়িতে গিয়েছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘জাতি ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগ আজীবন শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে। আমরা সেই একুশের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে ভাষা সৈনিকদের শ্রদ্ধা জানাতে তাদের বাড়ীতে এসেছি।’

এর আগে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবসকে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনে জেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, পুলিশ বাহিনী, রাজনৈতিক, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে জেলা ও উপজেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারসহ বিভিন্ন শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধার্ঘ প্রদান করা হয়।