অসময়ে ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন মেহেরপুরের চাষীরা। মাত্র কয়েক বছর আগেও ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষ করতে শীত মৌসুমের জন্য অপেক্ষা করতে হতো। কিন্তু কৃষিনির্ভর মেহেরপুর জেলার সাহারবাটি ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা এখন বছরজুড়েই আবাদ করছেন ফুলকপি ও বাঁধাকপি। এতে কৃষকরা যেমন লাভবান হচ্ছেন, তেমনি কৃষি ক্ষেত্রেও সম্ভাবনার দ্বার খুলছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার সাহারবাটি ইউনিয়ন, মেহেরপুর সদর উপজেলার আমঝুপি ও মুজিবনগর উপজেলার কিছু এলাকায় অসময়ে ফুলকপি চাষ করে সফল হয়েছেন কৃষকরা। ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষ করতে একসময়ে শীতকালের জন্য অপেক্ষা করতে হতো। কিন্তু এখন বছরজুড়েই আবাদ করছেন মেহেরপুর জেলা কৃষকরা। আর অসময়ে এসব সবজি বাজারে উঠায় ভালো চাহিদা রয়েছে। ফলে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। দিন দিন বাড়ছে কপি আবাদ।

চলতি মৌসুমে জেলার তিন উপজেলায় ৬৫ হেক্টর জমিতে ফুলকপি ও বাঁধাকপি আবাদ হয়েছে, যা এখন পর্যন্ত অসময়ে কপির আবাদ সর্বোচ্চ। এতে কৃষকরা যেমন আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন, তেমনি কৃষি ক্ষেত্রেও ঘটছে উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনা। অসময়ে ফুলকপি ও বাঁধাকপিগুলো দেখতে বেশ চমত্কার এবং খেতে সুস্বাদু। অসময়ে হওয়ার কারণে বাজারে এর চাহিদা বেশি। পাশাপাশি খুব বেশি কৃষক এ আবাদ না করায় ভালো দামে ব্যবসায়ীরা ক্রয় করেন। আবার অনেকে নিজেরাই স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি চট্টগ্রাম ও ঢাকাসহ বিভিন্ন মোকামে ভালো দামে বিক্রি করছেন। অসময়ের ফুলকপি অনেক ক্ষেত থেকেই ৬৫-৭০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। উৎপাদনে খরচ হয়েছে ২০-২৫ হাজার টাকা। এতে অল্প সময়ে ভালো লাভের মুখ দেখেছেন কৃষকরা। তবে অতিরিক্ত বর্ষা হলে ক্ষতির সম্মুখীন হন কৃষকরা। চলতি বছরে যেহেতু বর্ষা মৌসুমে বর্ষা কম হয়েছে, তাই রোগবালাই কম হওয়ার পাশাপাশি পচার হাত থেকেও বেঁচে গেছে ক্ষেত। কৃষি অফিস বলছে, অসময়ে ফুলকপি বাঁধাকপি চাষাবাদের জন্য সঠিক পরামর্শ ও পরিচর্যার বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন তারা। কপি মূলত শীতকালীন সবজি। অসময়ে করাও সম্ভব তবে পরিশ্রমটা একটু বেশি করতে হয়।

গাংনী উপজেলার সাহারবাটির কৃষক রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, চলতি মৌসুমে অতিরিক্ত শিলাবৃষ্টি না হওয়ায় ভালো লাভবান হয়েছেন তিনি। ১০ বিঘা ফুলকপির আবাদ করেন চলতি মৌসুমে। প্রতি বিঘা কপি ক্ষেত থেকে তিনি প্রায় ৭০-৭২ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। বিঘাপ্রতি ৪০ হাজার টাকার ওপরে লাভ হয়েছে তার।

ওই মাঠের আরেক কৃষক সাদ্দাম হোসেন জানিয়েছেন, বিঘাপ্রতি ২০-২২ হাজার টাকা খরচ করে মাত্র ৯০ দিনের এ আবাদে ৬৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি। অন্য যেকোনো ফসল আবাদের চেয়ে কপি লাভজনক বলে তিনি মনে করছেন। কারণ অল্প সময়ে, কম খরচে ঝামেলাহীনভাবে বেশি টাকা আয় করা যায়।

স্থানীয় ক্ষেত থেকে কপি ক্রয় করে দেশের বিভিন্ন বাজারে বিক্রয় করা ব্যবসায়ী কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার গেদু মিয়া জানান, অসময়ে ফুলকপি আবাদ সারা দেশে হয় না। শুধু মেহেরপুর, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গাসহ কয়েক জেলায় এ আবাদ হয়। যেহেতু অসময়ের কপি, তাই কম কৃষকরা এ আবাদ করে, কপিও বাজারে পাওয়া যায় কম, তাই চাষী ও ব্যবসায়ীরা লাভবান হন। আমি কপি কাটা শুরু হওয়ার আগেই এক বিঘা কপি ৬৪ হাজার টাকায় ক্রয় করি।

মেহেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক স্বপন কুমার খাঁ জানান, জেলার তিন উপজেলায় গাংনী উপজেলার সাহারবাটি, সদর উপজেলার আমঝুপি ও মুজিবনগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আগাম সবজি হিসেবে ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষ করছেন চাষীরা। এরই আগে আবাদ করে তারা লাভবান হয়েছেন। আমরা আশা করছি তারা এবারো ভালো লাভবান হবেন। আমাদের কৃষি বিভাগ তাদের পরামর্শসহ নানা সহযোগিতা করছে।