বান্দরবানের লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নের ম্রো ও ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর তিন পাড়ায় আগুন লাগার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত জুম ভূমি পরিদর্শন করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির ২নং সাব-কমিটি ও বাংলাদেশ রাবার বোর্ডের সদস্যরা। গতকাল সকালে রেংয়ানপাড়া এলাকায় পরিদর্শনকালে ছিলেন সংসদীয় সাব-কমিটির আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম-৬ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী, সদস্য ও রাঙ্গামাটির সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার, সদস্য ও খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, সদস্য ও সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য বাসন্তী চাকমা, বাংলাদেশ রাবার বোর্ডের চেয়ারম্যান সৈয়দা সারওয়ার জাহান, বান্দরবান জেলা প্রশাসক ইয়াছমিন পারভীন তিবরীজী, তৎকালীন পুলিশ সুপার জেরিন আখতার, বর্তমান পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম প্রমুখ।
এ সময় ভুক্তভোগীদের বক্তব্য শেষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় সংসদীয় কমিটির আহ্বায়ক চট্টগ্রাম-৬ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী বলেন, ‘লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজের লিজের জমি থেকে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতি পরিবারকে পাঁচ একর জুম ভূমি ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে তিন পাড়াবাসীর জন্য ২০৬ একর পাহাড়ি ভূমি নাম সংশোধন করে দেয়া হবে।’ তিনি আজ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠেয় সভায় তিন পাড়ার প্রতিনিধিদের ক্ষতিগ্রস্তদের নামের তালিকাসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেয়ার আহ্বান জানান।
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ২৬ এপ্রিল বেলা ১১টার দিকে ১৫-২০ জন লোক লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের পরিচয়ে সরই ইউনিয়নের ডলুছড়ি মৌজার লাংকম ও রেংয়ান ম্রো পাড়া ও জয়চন্দ্র ত্রিপুরা পাড়ার প্রায় ৪০০ একর জুম ভূমি আগুনে পুড়িয়ে দেয় ও ঘর ভাংচুর করে। সে সময় আগুন ধরাতে কেরোসিন, রাবার ও চপ্পল ব্যবহার করা হয়। আগুনে তিন পাড়াবাসীর কবরস্থান, জুম ভূমিতে চাষ করা ফলের বাগান, বাঁশবাগান, ফলদ-বনজ বিভিন্ন গাছসহ ছোট-বড় নানা প্রজাতির অসংখ্য বন্যপ্রাণীরও মৃত্যু হয়। জুম ভূমিতে আগুন লাগানোর ঘটনায় লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজের আটজনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা করেন লাংকমপাড়ার কারবারি (পাড়াপ্রধান) লাংকম ম্রো। ওই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা-পরবর্তী সময়ে ভয়াবহ খাদ্যসংকটে পড়ে তিন পাড়াবাসী।










