ফেনীতে ১৩৪টি কৃষি ব্লকে ১ লাখ ৭৩ হাজার কৃষি পরিবার রয়েছে। জেলায় আবাদযোগ্য জমি রয়েছে ৭০ হাজার হেক্টর। এক যুগের বেশি সময় ধরে জেলায় উদ্বৃত্ত খাদ্যশস্য মজুদ রয়েছে। বন্যায় আমন মৌসুমে উৎপাদন নেমে এসেছে ৪০ শতাংশের নিচে। এ অবস্থায় জেলায় খাদ্যশস্য ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ঘাটতির চাপ কাটিয়ে উঠতেই এবার প্রণোদনার পরিমাণ বাড়িয়েছে সরকার। গত বছর ৩ কোটি ১২ লাখ ৫৩ হাজার ৭০০ টাকার প্রণোদনা দেয়া হয়। এবার তা বাড়িয়ে ২৪ কোটি ৫৯ লাখ ১৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। কৃষক বলছেন, ক্ষতি অনুপাতে প্রণোদনার পরিমাণ কম।
কৃষিসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এরই মধ্যে প্রণোদনার বীজ, সার ও নগদ টাকা বিতরণসহ আনুষঙ্গিক কার্যক্রম শুরু করেছে কৃষি বিভাগ। কৃষক আবাদে মনোযোগী হলে আমন মৌসুমে উৎপাদনে যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে তা কিছুটা হলেও কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।
কৃষক বলছেন, সরকার প্রণোদনা হিসেবে যে সহায়তা দিচ্ছে, তা একেবারেই অপ্রতুল। তাদের ধারণা ছিল, বন্যায় যে পরিমাণ ফসলের ক্ষতি হয়েছে; সরকার তার ক্ষতিপূরণ দেবে। অথবা ক্ষতির পরিমাণ অনুযায়ী প্রণোদনা দেবে।
কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বন্যায় ফেনীতে ৩৫ হাজার হেক্টর ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে যায়। এতে ১ লাখ ৬৭ হাজার কৃষকের ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় ৫২৪ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। মৌসুমের শুরুতে বেঁধে দেয়া আমন আবাদ কমে নেমে আসে ৪০ শতাংশে।
কৃষি বিভাগ জানায়, ২০২৩ সালে ফেনীতে ৪৮ হাজার ৮১০ কৃষককে চারটি প্রকল্পের মাধ্যমে ৩ কোটি ১২ লাখ ৫৩ হাজার ৭০০ টাকার প্রণোদনা দেয়া হয়। এবার ছয়টি প্রকল্পে ১ লাখ ৫৮ হাজার কৃষককে ২৪ কোটি ৫৯ লাখ ১৫ হাজার টাকার প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে। সে হিসাবে জেলায় মোট কৃষকের ৯২ শতাংশকে প্রণোদনার আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে।
ফেনী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক একরাম উদ্দিন বলেন, ‘ফেনীতে ভয়াবহ বন্যা কৃষকের প্রায় সবকিছু ধ্বংস করে দিয়েছে। বন্যায় ফেনীর ১ লাখ ৬৭ হাজার কৃষক পরিবারের অন্তত ৫২৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে পুনর্বাসন ও উৎপাদনে উৎসাহী করে তোলার জন্য ২৪ কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ে ছয় ধরনের প্রণোদনা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।’










