কয়েক মৌসুম ধরে মন্ত্রণালয়ের বেঁধে দেয়া ধান-চাল ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেনি খাদ্য অধিদপ্তর। সরকারি পর্যায়ে খাদ্য সংকট নিরসনে গুদামে মজুদ করার জন্য ধান-চাল কৃষক পর্যায় থেকে ক্রয়ের জন্য প্রতি কৃষি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা দিলেও নানা কারণে সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। তবে চলতি বছরে চট্টগ্রাম আঞ্চলিক খাদ্য অধিদপ্তরে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। ধান-চাল ক্রয়ের মৌসুম প্রায় ২০ দিন বাকি থাকলেও লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৮৬ শতাংশ ক্রয় সম্পন্ন করেছে দপ্তরটি। তবে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী চাল ক্রয় প্রায় শেষ পর্যায়ে হলেও ধান নিয়ে সংশয়ে খাদ্য অধিদপ্তর।

চট্টগ্রাম আঞ্চলিক খাদ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চট্টগ্রাম বিভাগের জেলাগুলোয় ধান ৫৭ হাজার ৯৮৪ টন, সেদ্ধ চাল ১ লাখ ২২ হাজার ১৮৭ টন এবং আতপ ২৬ হাজার ৫৫২ টন ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা দিয়েছে খাদ্য অধিদপ্তর। মাঠ পর্যায়ের কৃষক ছাড়াও খাদ্য অধিদপ্তরের লাইসেন্সধারী আতপ চালে ২৭৬টি এবং সেদ্ধ চালের জন্য ২৭৩টি চালকল মালিকদের সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে। এসব চালকল ১ লাখ ২১ হাজার ৯২০ টন সেদ্ধ চাল এবং ২৩ হাজার ৬৬৮ টন আতপ চাল সরবরাহ করবে বলে খাদ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে চুক্তি করেছে।

সর্বশেষ ৪ আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ৩৩ হাজার টন ধান বা ৫৭ শতাংশ ধান কেনা শেষ হয়েছে। সেদ্ধ চাল কেনা হয়েছে ১ লাখ ৭ হাজার ৫৬৩ টন বা ৮৮ শতাংশ এবং আতপ কেনা হয়েছে ২৭ হাজার ৮৫২ টন বা ১০৫ শতাংশ। সব মিলিয়ে ধান, সেদ্ধ ও আতপ চালের ১ লাখ ৯৬ হাজার ৭২৩ টনের মধ্যে সংগ্রহ করা হয়েছে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৪১৫ টন বা ৮৫ দশমিক ৬১ শতাংশ কেনা সম্পন্ন হয়েছে। চলতি মৌসুমে ধান ৩২ টাকা, সেদ্ধ চাল ৪৫ এবং আতপ চাল ৪৪ টাকা কেজিপ্রতি দাম নির্ধারণ করেছে খাদ্য অধিদপ্তর।

চট্টগ্রাম আঞ্চলিক খাদ্য অধিদপ্তরের সহকারী উপপরিচালক দোলন দেব বণিক বার্তাকে বলেন, ‘খাদ্য ক্রয় কর্মসূচিতে গত কয়েক বছর সরকারের দেয়া লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হয়নি। তবে চলতি বোরো মৌসুমে ধান-চাল ক্রয়ের যে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সময়সীমা আছে, তাতে সেদ্ধ ও আতপ চাল লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় বেশি ক্রয় করা যাবে। তবে ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে আমরা সংশয়ে। জেলাগুলোয় ধান ক্রয় সম্পন্ন করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছি। সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ শেষ হবে। যেসব চালকল মালিক চুক্তি অনুযায়ী সরবরাহ করবেন না, তাদের বিরুদ্ধে জামানতসহ চুক্তি বাতিলের মতো সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, মাঠ পর্যায়ের ধান খাদ্যগুদামে সংগ্রহ করা হয়। ধান ক্রয়ের সময় ভেজা, আর্দ্রতা বেশি, চিটার পরিমাণ ইত্যাদি দেখে কেনা হয়। ধান ভালো করে যদি না শুকানো হয় এবং আর্দ্রতা সর্বোচ্চ ১৪ শতাংশের বেশি হলে সে ধান কেনা সম্ভব হয় না। চিটার পরিমাণ মাত্র দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত বিবেচনা করা হয়। কিন্তু যারা ধান বিক্রি করতে আসেন, তাদের যদি ফিরিয়ে দেয়ায় খাদ্য অধিদপ্তরের সুনাম নষ্ট হচ্ছে। সেদ্ধ ও আতপ চাল কেনা প্রায় শেষের পথে। তবে ধান কেনা শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী হবে কিনা সেটা নিয়েই সংশয়ে তারা। আবার ধান বিক্রির টাকা সরকারি পর্যায়ে পেতে একটু দেরি হয়। এ কারণেও অনেকে বিক্রি করতে আসেন না।

তবে কৃষক বলছেন, সরকারি গুদামে ধান বিক্রি করতে চাইলে হয়রানি তো আছেই, সঙ্গে কমিশন দিয়ে বিক্রি করা লাগে। অনেক সময় ধান ফেরত দেয়া হয়। ধান উৎপাদন করে সেটা বিক্রি করলে খুব বেশি লাভবান হওয়া সম্ভব হয় না। বিক্রি করলে টাকাও দরকার হয়। দ্রুত টাকা পাওয়ার জন্য বাইরে আড়তদারদের কাছে ধান বিক্রি করেন কৃষক। এজন্য সরকারি গুদামে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয় না।