ফেনীর পরশুরামে সারের অতিরিক্ত দাম নেয়ার অভিযোগে বিসিআইসি অনুমোদিত ছয়টি সার ও বীজ বিক্রয় কেন্দ্র বন্ধ করে দিয়েছেন পৌর মেয়র নিজাম উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী সাজেল। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল মেয়র সাজেল এ নির্দেশ দেন। বিষয়টি প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত ডিলারদের লাইসেন্স বাতিলসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলেছে কৃষি বিভাগ।

জানা যায়, পরশুরাম উপজেলায় হাবিব ট্রেডার্স, পরশুরাম বাণিজ্য বিতান, আলী আশরাফ, ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স, দাউদ অ্যান্ড ব্রাদার্স, মেসার্স আবদুল খালেক, মেসার্স জামাল উদ্দিন বিসিআইসি অনুমোদিত সার ডিলার। ডিলারদের কাছ থেকে পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ড ও প্রতিটি ইউনিয়নে একজন করে খুচরা বিক্রেতা সার সংগ্রহ করেন। সম্প্রতি বাজারে সারের কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে প্রতি বস্তায় অতিরিক্ত দাম আদায় করছেন ডিলাররা। এ নিয়ে কৃষকরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কৃষি কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ দিলেও কোনো প্রতিকার পাননি। গতকাল স্থানীয় কৃষকরা পৌর মেয়র সাজেলের কাছে অভিযোগ দিলে তিনি এসব বিক্রয় কেন্দ্র পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করেন।

স্থানীয় কৃষক মোশাররফ হোসেন জানান, গত কয়েক মাস বিভিন্ন অজুহাতে ডিলাররা প্রতি বস্তা সারে ১০০-২০০ টাকা পর্যন্ত বেশি আদায় করছেন। এ নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে প্রতিবাদ করেও কোনো সুরাহা মেলেনি। তাই আমরা মেয়রের কাছে নালিশ করি।

পরশুরাম বাণিজ্য বিতানের স্বত্বাধিকারী আবু ইউছুফ জানান, বস্তাপ্রতি ১০০-২০০ টাকা অতিরিক্ত সারের দাম নেয়ার বিষয়টি সত্য নয়। তবে পরিবহন খরচ বৃদ্ধি ও আনুষঙ্গিক ব্যয় বৃদ্ধি হওয়ায় বস্তাপ্রতি সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ৫-১০ টাকা বেশি দামে সার বিক্রি হচ্ছে।

তিনি আরো জানান, তার দোকানে ইউরিয়া সার ৮১০ টাকা, পটাশ ৭৬০ ও টিএসপি ১ হাজার ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ১০ টাকা বেশি। কিন্তু স্থানীয় কৃষক না বুঝে মেয়রের কাছে অভিযোগ দিয়েছেন। 

পরশুরাম পৌরসভার মেয়র নিজাম উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী সাজেল জানান, উপজেলার সব ডিলার এক জোট হয়ে বাজারে সারের কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে কৃষকের কাছ থেকে অতিরিক্ত দাম আদায় করছে। বিষয়টি জানতে পেরে দোকান বন্ধ করে পৌরসভায় আসার জন্য ডিলারদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বিষয়টির সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত সব ডিলারের দোকান বন্ধ থাকবে।

এদিকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সফিউদ্দিন জানান, কৃষকের মাঝে নির্ধারিত মূল্যে সার পৌঁছে দিতে জেলায় ৫৫ জন ডিলার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির সুযোগ ডিলারদের নেই। যারা সরকারি আইন ও কৃষকের অধিকার ভঙ্গ করবে, তাদের ডিলারশিপ বাতিলসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।