আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী
শেখ হাসিনা আজ শনিবার (৩০ ডিসেম্বর) মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলায় একটি নির্বাচনী জনসভায়
প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন। এ উপলক্ষে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলো একাধিক
প্রস্তুতি ও মতবিনিময় সভা, প্রচার-প্রচারণা ও মিছিল করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল
থেকে আশপাশের জেলা-উপজেলায়ও চলছে মাইকিং।
আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্র থেকে জানা
গেছে, আজ শনিবার বেলা তিনটায় গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় একটি জনসভা শেষে সড়ক পথে কালকিনি
আসবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে উপজেলা শহরের সৈয়দ আবুল হোসেন কলেজ মাঠে নির্বাচনী
জনসভায় বক্তব্য দেবেন তিনি। এ সময় শেখ হাসিনার সঙ্গে তার বোন শেখ রেহানাও থাকবেন।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আবুল
কালাম আজাদের সভাপতিত্ব ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লোকমান হোসেন সরদারের সভা সঞ্চালনা
এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে সব ধরনের প্রস্তুতি
শেষ বলে জানিয়েছেন মাদারীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ মোল্লা।
তিনি বলেন, ‘মাদারীপুরের কালকিনিতে
প্রধানমন্ত্রীর প্রথম আগমন ঘটবে। এই কারণে এখানকার মানুষ অত্যন্ত উৎফুল্ল। আমাদের প্রাণপ্রিয়
নেত্রীর এই জনসভা সফল করতে আওয়ামী লীগ ও আমাদের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সবাই মিলেমিশে
কাজ করছেন। প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি যে দিকনির্দেশনা দেবেন,
তা সবাই ঐক্যবদ্ধ ভাবে মেনে চলবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।’
কালকিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম
সাধারণ সম্পাদক লোকমান হোসেন সরদার বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর জনসভা ঘিরে সব ধরনের প্রস্তুতি
শেষ হওয়ার পথে। আশা করছি, জনসভাস্থলে এক লাখ লোকের সমাগম ঘটবে। প্রধানমন্ত্রীকে দেখার
জন্য আশপাশের জেলা-উপজেলা থেকেও অনেক মানুষ আসবে। বৃহস্পতিবার থেকে আমাদের মাইকিং শুরু
হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে আমরা প্রস্তুত।’
কালকিনি, ডাসার ও সদরের পাঁচটি ইউনিয়ন
নিয়ে গঠিত মাদারীপুর-৩ আসন। এই আসনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আবদুস সোবহান
মিয়া গোলাপ। তিনি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত
হন। এবার দ্বিতীয়বারের মতো এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন। তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা
করছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ও কালকিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি তাহমিনা
বেগম।
কালকিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে
প্রধানমন্ত্রীর জনসভার আয়োজন করা হলেও সেখানে থাকবেন না বলে জানিয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী
ও কালকিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি তাহমিনা বেগম এবং তার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির
প্রধান সমন্বয়ক ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তৌফিকুজ্জামান শাহীন।
তাহমিনা বেগম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী
আমাদের এখানে আসবেন, এর চেয়ে সুখবর আর কিছুই হতে পারে না। তাকে আমরা স্বাগত জানাই।
তবে নৌকার প্রার্থীর বিপক্ষে যেহেতু আমি নির্বাচন করছি, ওই জনসভায় গেলে আমার বহু কর্মীও
জনসভাস্থলে আসবেন। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে সহিংসতা সৃষ্টি হতে পারে। তাই প্রধানমন্ত্রী
জনসভায় থাকার ইচ্ছা থাকলেও মাদারীপুর-৩ আসনের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায়
আমার থাকা হচ্ছে না।’
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর
সদস্য ও মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী শাজাহান খান বলেন, ‘আমরা খুবই আনন্দিত
যে, প্রধানমন্ত্রী মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলায় আসছেন। তিনি সারা দেশেই প্রচারণা করছেন,
তবে কালকিনিতে তিনি সশরীরে জনসভায় বক্তব্য দিবেন।।’
মাদারীপুর-৩ আসনের আওয়ামী লীগের মনোনীত
সংসদ সদস্য প্রার্থী এবং দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবাহান মিয়া গোলাপ
বলেন, কালকিনির এই জনসভায় প্রতিটি ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও গ্রাম থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী
উপস্থিত হবেন। আমরা মনে করছি, প্রধানমন্ত্রীকে দেখার জন্য, তার বক্তব্য শোনার জন্য
লক্ষাধিক মানুষের সমাবেশ ঘটবে এই জনসভায়।
এদিকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে
মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে কালকিনিতে
কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সব প্রস্তুতি এরই মধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। এলাকা
জুড়ে নিরাপত্তায় জেলা পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, র্যাবসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা
মাঠ পর্যায়ে তাদের কার্যক্রম করছে। প্রধানমন্ত্রীর আগমণকে ঘিরে ছয় স্তরের নিরাপত্তার
বেষ্টনি তৈরি করা হয়েছে।










