গত ২৪ ডিসেম্বর চালের আমদানি শুল্কে বড় ধরনের ছাড়ের ঘোষণা দেয় সরকার। বেসরকারিভাবে চাল আমদানিতে আমদানি শুল্ক ৬২ দশমিক ৫ থেকে ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়। সরকারের এ সুবিধায় গত প্রায় চার মাসে ৬ লাখ ৫৩ হাজার ৯০০ টন চাল আমদানি করেছে বেসরকারি খাত। তবে শুল্ক সুবিধায় আনা এসব চাল দামে স্থিতিশীলতা আনতে প্রভাব খুব বেশি দৃশ্যমান হয়নি। কেননা এ সময়ে চালের দাম বেড়েছে।
খাদ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরের ২১ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে মোট চাল আমদানি হয়েছে ৯ লাখ ১৫ হাজার ৩৫০ টন। গত অর্থবছরের পুরো সময়ে মোট চাল আমদানির পরিমাণ ছিল মাত্র ৪ হাজার ১৮০ টন। সেখানে সরকারিভাবে কোনো চাল আমদানি ছিল না। পুরোটাই ছিল বেসরকারি আমদানি। মূলত বেসরকারিভাবে আমদানি হলেও শুল্কহার বেশি থাকায় আমদানির পরিমাণ ছিল খুবই কম। অন্যদিকে চলতি অর্থবছরে আমদানীকৃত চালের মধ্যে সরকারিভাবে ২ লাখ ৬১ হাজার ৪৫০ ও বেসরকারিভাবে ৬ লাখ ৫৩ হাজার ৯০০ টন। চালের বাজার স্থিতিশীল রাখতে আমদানি শুল্কহার কমিয়ে বেসরকারিভাবে চাল আমদানি উন্মুক্ত ঘোষণা করা হয় গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর। মূলত ২৪ ডিসেম্ব্বর বেসরকারিভাবে চালের আমদানি শুল্ক কমাতে প্রধানমন্ত্রী অনুমতি দিয়েছিলেন। সে সময় শুল্কহার ৬২ দশমিক ৫ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়। তবে চালের আমদানি শুল্ক কমানোর প্রভাব বাজারে এখনো খুব বেশি পড়েনি। গত বছরের ডিসেম্বরে চালের যে উচ্চদাম ছিল তা এখনো বাজারে চলমান রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে চালের দাম বেড়েছে।
খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার সে সময়ে জানিয়েছিলেন, চালের বাজার স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে। বৈধ আমদানিকারকরা বেসরকারিভাবে চাল আমদানির জন্য প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্রসহ খাদ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করবেন। পরে একটা নীতিমালার মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে খাদ্য মন্ত্রণালয় চাল আমদানির অনুমতি দেবে। নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ চাল আমদানির অনুমতি দেয়া হবে। বাজার যাতে স্থিতিশীল থাকে সেজন্য শুল্ক কমিয়ে চাল আমদানি উন্মুক্ত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে হিলির মেসার্স খান ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী ও হিলি স্থলবন্দর আমদানি রফতানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশীদ বণিক বার্তাকে বলেন, বেসরকারিভাবে চাল আমদানির অনুমতির কারণে দামের ওপর যেভাবে প্রভাব পড়ার কথা সেভাবে পড়েনি, এটা স্বীকার করছি। কিন্তু এটির জন্য ব্যবসায়ীরা মোটেও দায়ী নন। আমরা যখন আমদানি শুরু করলাম, তখন আন্তর্জাতিক বাজারে সব দেশই দাম বাড়িয়ে দেয়। এ অবস্থায় বেশি দামে চাল আমদানি করে দেশের বাজারে সরবরাহ করতে হয়েছে। তবে গতবার চাল উৎপাদন কম থাকার কারণে বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতি বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ফলে আমাদের চাল বাজারে না এলে দাম আরো বাড়তে পারত। কয়েক দিনের মধ্যেই চালের দাম কমে আসবে বলে ধারণা করছি। তেমন কোনো দুর্যোগ না থাকায় আগামীতে চাল উৎপাদন বাড়বে। বাজারে সরবরাহ বাড়লে আমদানির সুযোগ সীমিত হয়ে আসবে।










