দুই কক্ষের একতলা ভবন। রয়েছে একটি বারান্দা। রোগী বসার গুটিকয়েক চেয়ারও রয়েছে। কিন্তু কক্ষগুলোতে বসার উপায় নেই। ছাদের নিচে পলিথিন টাঙিয়ে রোগী দেখেন স্বাস্থ্য সহকারী। খসে পড়া পলেস্তারা ও বৃষ্টির পানি থেকে বাঁচতে স্বাস্থ্য সহকারী রণজিৎ সেন মাথার ওপর পলিথিন টাঙিয়ে রেখেছেন। এমন চিত্র চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার আজমনগর কমিউনিটি ক্লিনিকে। 

স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দৌড় গোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকার সারা দেশের মতো মিরসরাইয়ে ৪১টি কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করে, কিন্তু ৪১টি কমিউনিটি ক্লিনিকের মধ্যে বর্তমানে ১৫টি ঝুঁকিপূর্ণ। বর্ষাকালে ছাদ চুইয়ে পড়ে পানি। পাঁটিতে নেই কোনো শৌচাগার ও টিউবওয়েল। ব্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা। যদিও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মিনহাজ উদ্দিন বলছেন, ঝুঁকিপূর্ণ কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো সংস্কারে একটি তালিকা সিভিল সার্জন বরাবর পাঠানো হয়েছে। একটি কমিউনিটি ক্লিনিক সংস্কারের  অনুমোদন পাওয়া গেছে। 

মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের বসবাস চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায়। রয়েছে ১৬টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভা নিয়ে  গঠিত এ উপজেলার প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ মধ্য ও নিম্নবিত্তের। তাই কেউ অসুস্থ হলেই ছুটতে হয় সরকারি হাসপাতালে, কিন্তু এ উপজেলার ৪১টি কমিউনিটি ক্লিনিক ভবনের মধ্যে ১৫টি ঝুঁকিপূর্ণ। বছরের পর বছর সংস্কার না করায় এসব কমিউনিটি ক্লিনিকে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

ঝুঁকিপূর্ণ কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো মিরসরাই সদর ইউনিয়নের নাজিরপাড়া, পশ্চিম মায়ানী, দক্ষিণ মঘাদিয়া, বাড়ীয়াখালী, পশ্চিম হিঙ্গুলী, রহমতাবাদ, হাদিমুছা, হরিহরপুর, সফিউল্ল্যাপাড়া ও আজমনগর কমিউনিটি ক্লিনিক। তবে ১৫টির মধ্যে আজমনগর কমিউনিটি ক্লিনিক সংস্কারের জন্য বরাদ্দ পেয়েছে। এছাড়া ছয়টি কমিউনিটি ক্লিনিকে টয়লেট ও টিউবওয়েল স্থাপন করা হচ্ছে। এগুলো হলো মেহেদীনগর, খিলমুরারী, মোবারঘোনা, সাহেরপুর, পশ্চিম জোয়ার ও নাজিরপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিক।

সরজমিনে মেহেদীনগর কমিউনিটি ক্লিনিকে গিয়ে দেখা যায়, নারী রোগীদের দীর্ঘ লাইন। সামনে চলছে টয়লেট নির্মাণকাজ। কিন্তু ভেতরে ছাদের পলেস্তরা খসে পড়ছে। 

আজমনগর কমিউনিটি ক্লিনিকে গিয়ে দেখা যায়, স্বাস্থ্য সহকারী ছাদের নিচে পলিথিন টাঙিয়ে রোগী দেখছেন। প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র পাশের কক্ষে পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। টিউবওয়েলটিও নষ্ট। বাথরুমে যাওয়ার কথা তো চিন্তাই করা যায় না। চিকিৎসা নিতে আসা আবুল খায়ের বলেন, ‘এখানে চিকিৎসা নিতে এলে ভয়ে থাকতে হয়। যেকোনো সময় ছাদের পলেস্তরা খসে মাথায় পড়তে পারে।’

জানতে চাইলে আজমনগর কমিউনিটি ক্লিনিকের ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য সহকারী রণজিৎ সেন বলেন, ‘মিরসরাইয়ে ৪১টি কমিউনিটি ক্লিনিকের মধ্যে আজমনগর ক্লিনিকটির অবস্থা সবচেয়ে বেশি নাজুক। ছাদ থেকে পানি ও পলেস্তরা খসে পড়ায় আমি নিজ খরচে পলিথিনি টাঙিয়ে দিয়েছি। এ ক্লিনিকে গড়ে ৫০-৬০ রোগী জ্বর, কাশি, পাতলা পায়খানাসহ বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা ও বিনামূল্যে ওষুধ পেয়ে থাকেন।’ 

বাড়ীয়াখালী কমিউনিটি ক্লিনিকের সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘এ ক্লিনিক ভবনটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। বৃষ্টি হলে ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে। স্বাস্থ্যসেবা দেয়া কঠিন হয়ে পড়ে। দ্রুত এ কমিউনিটি ক্লিনিক সংস্কার করা না হলে স্বাস্থ্যসেবা বন্ধ হয়ে যাবে।’

উপজেলা স্বাস্থ্য পরিদর্শক মো. শহিদ উল্ল্যা বলেন, ‘৪১টি কমিউনিটি ক্লিনিকের মধ্যে ১৫টি ঝুঁকিপূর্ণ। ১৫টির মধ্যে ১১টি মেরামতযোগ্য হলেও চারটি পুনর্নির্মাণ করতে হবে। এছাড়া ছয়টি কমিউনিটি ক্লিনিকে টয়লেট ও টিউবওয়েল স্থাপন করা হচ্ছে।’

মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মিনহাজ উদ্দিন বলেন, ‘সম্প্রতি ঝুঁকিপূর্ণ কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো সংস্কারে সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে তালিকা পাঠানো হয়েছে। তবে একটি মেরামতের অনুমোদন পাওয়া গেছে।’