সংবিধানে বাংলাদেশের জনগণের সর্বোচ্চ সম্মান দেয়া হয়েছে বলে মনে করে খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সভাপতি ও গণফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ড. কামাল হোসেন। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাদেশের সংবিধানের ৫০তম সংবিধান দিবস উপলক্ষে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্ট্যাডিজ আয়োজিত ‘আমরা, বাংলাদেশের জনগণ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি। এ সময় সংবিধানে ৭০ অনুচ্ছেদ নিয়ে কথা বলেন ড. কামাল। 

তিনি বলেন, সংবিধানে ৭০ অনুচ্ছেদ রাখার পেছনে একটা কারণ আছে। আমাদের দেশে দল বদলের এমন একটি সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। কেউ একটি দলের মনোনয়নে সংসদ সদস্য হওয়ার পরে শুধু মন্ত্রী হওয়ার লোভে বা ব্যক্তিগত স্বার্থে খেয়ালখুশিমত দল পরিবর্তন করেন। তাদের এ দল পরিবর্তন বিবেকের তাড়নায় নয় বা গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার জন্যও সহায়ক নয়। ৭০ অনুচ্ছেদ এর সঠিক ব্যবহারের জন্য দলগুলোকে গণমানুষের হয়ে উঠতে হবে। 

গণফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বলেন, সংবিধানে ‘সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ’ লেখার মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণের সর্বোচ্চ সম্মান দেয়া হয়েছে। মহান মুক্তিযুদ্ধে মানুষ যে চেতনা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল সংবিধানের চার মূলনীতিতে তার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। এখানে আমাদের অতীত লড়াইও ভবিষ্যৎ অভিযাত্রাও ছিল। আমাদের সংবিধান রক্ষায় ও গণতন্ত্র শক্তিশালী করতে সবাইকে সোচ্চার হতে হবে।

তবে একই আলোচনায় অংশ নিয়ে ড. কামাল হোসেনের দেয়া বক্তব্যে দ্বিমত পোষণ করেন অর্থনীতিবিদ ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। তিনি বলেন, ‘প্রজাতন্ত্রের মালিক জনগণ’ বর্তমানে একটি আপ্তবাক্যে পরিণত হয়েছে। এটি এখন শুধু বলার জন্য বলা হয়ে থাকে। সংবিধানের বেশিরভাগ সংশোধনী শাসকগোষ্ঠীর ইচ্ছায় হয়েছে। জনগণের ইচ্ছায় নয়। ৭০ অনুচ্ছেদ এর কারণে একজন সাংসদ তার নির্বাচনী এলাকার মানুষের স্বার্থ বিরোধী কোনকিছুর বিরুদ্ধে এবং অন্যায় কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে স্বাধীনভাবে মতামত প্রকাশ করতে পারেন না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শাকিল আহমেদের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী নাসিম আখতার হোসাইন ও সেন্টার সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্ট্যাডিজের সভাপতি অধ্যাপক মহিউদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।