মানুষের জন্য কাজ করতে সবসময় বড় আয়োজনের প্রয়োজন হয় না, বরং সামান্য একটি উপহারও কারো দিন সুন্দর করে দিতে পারে বলে মনে করেন ইমরান হোসাইন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কখনো নবীন শিক্ষার্থীর হাতে, কখনো বা নানা কর্মসূচিতে আসা মানুষের হাতে চকলেট তুলে দিয়ে গত ছয় বছরে তিনি এক লাখের বেশি মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়েছেন।

ইমরান হোসাইন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং বিজয় একাত্তর হলের সাবেক আবাসিক ছাত্র। বর্তমানে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকেই ২০১৯ সালের শুরুতে তিনি এই চকলেট বিতরণের উদ্যোগ শুরু করেন। কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছাড়া ক্যাম্পাসে নিয়মিত চলাফেরার সময় পরিচিত কিংবা অপরিচিতদের হাতে চকলেট তুলে দেয়া ছিল তার দৈনন্দিন অভ্যাস।

উদ্যোগটির উদ্দেশ্য তুলে ধরে ইমরান জানান, চকলেটের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেয়ার চিন্তা থেকেই এই পথচলা শুরু হয়। বিশেষ করে নতুন পরিবেশে আসা নবীন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের শুরুটা সহজ ও আনন্দময় করতে এটি দারুণ ভূমিকা রাখে।

গত ছয় বছরে এক লাখের বেশি চকলেট বিতরণে তার খরচ হয়েছে প্রায় দুই লাখ টাকা। নিজের ব্যক্তিগত ফান্ড থেকে এই ব্যয় করা হলেও শিক্ষার্থীদের মুখে ফুটে ওঠা হাসি ও সম্পর্কের উষ্ণতাই তার প্রধান প্রাপ্তি।

তিনি আরো জানান, বিষয়টি কেবল চকলেট দেয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি পারস্পরিক সৌহার্দ্য বাড়ানো এবং ব্যস্ত জীবনের মাঝে মানুষকে একটুখানি স্বস্তি দেয়ার একটি আন্তরিক প্রচেষ্টা।

কয়েকটি চকলেট দিয়ে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ আজ পুরো ক্যাম্পাসে এক ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করেছে। ইমরানের এই পথচলা প্রমাণ করে যে, মানুষকে খুশি করতে সবসময় বড় কিছু লাগে না, কখনো ছোট্ট একটি উদ্যোগই হয়ে উঠতে পারে সম্পর্কের সুন্দর সূচনা।