সাড়ে চার মাস বন্ধ থাকার পর গতকাল বিকালে দিনাজপুরের পার্বতীপুর মধ্যপাড়ার খনি থেকে আবারো পাথর উত্তোলন শুরু হয়েছে। প্রতিদিন প্রায় পাঁচ হাজার টন পাথর উত্তোলন করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে খনি কর্তৃপক্ষ। এদিকে দীর্ঘদিন পর পাথর উত্তোলন শুরু হওয়ায় কর্মব্যস্ত হয়ে পড়েছেন খনির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। গত ১ মে থেকে বিস্ফোরক না থাকায় পাথর উত্তোলন বন্ধ হয়ে যায়। একই সংকটে ১২-২৬ মার্চ পাথর উত্তোলন বন্ধ ছিল।

খনি সূত্র জানায়, সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে তিন মাস অন্তর বিস্ফোরক আমদানি প্রক্রিয়া শুরু করার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিস্ফোরকের জোগান দিতে পারেনি খনি কর্তৃপক্ষ। এতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জিটিসির সাড়ে ৭০০ শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েন। পাথর না থাকায় বন্ধ হয়ে যায় বিক্রি কার্যক্রম।

মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের (এমজিএমসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু দাউদ মুহম্মদ ফরিদুজ্জামান বলেন, বুধবার ১০০ টন বিস্ফোরক দ্রব্য খনিতে পৌঁছেছে। ১৫ অক্টোবর ১২০ টন বিস্ফোরক দ্রব্য চট্টগ্রাম ও অক্টোবরের শেষে আরো ১৫০ টন বিস্ফোরক বেনাপোলে পৌঁছার কথা রয়েছে। আশা করছি, আগামী ছয় মাস নিরবচ্ছিনভাবে খনি থেকে পাথর উত্তোলন সম্ভব হবে। এতে প্রতিদিন গড়ে পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার টন পাথর উত্তোলন সম্ভব হবে।

সূত্র জানায়, গত সাড়ে চার মাস খনি বন্ধ থাকায় ঠিকাদার কোম্পানিকে ১০০ কোটি টাকার বেশি লোকসান গুনতে হয়েছে। সরকার প্রতি মাসে রাজস্ব হারিয়েছে ৫০ কোটি টাকার বেশি। পাথরের অভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে দেশের অনেক বড় বড় মেগা প্রকল্প।