চলমান ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট বর্তমান পরিস্থিতি সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের মধ্য দিয়ে সাম্রাজ্যবাদ অবসানের ভিত্তিভূমি হতে পারে বলে মনে করেন জার্মানির মার্কসবাদী-লেনিনবাদী পার্টির অন্যতম নেত্রী কমরেড মনিকা গার্টনার এঙ্গেল। তিনি বিশ্বের ৪২টি দেশের কমিউনিস্ট ও বিপ্লবী পার্টির আন্তর্জাতিক ফোরাম ‘ইন্টারন্যাশনাল কো-অর্ডিনেশন অব রেবলিউশনারি পার্টিস অ্যান্ড অর্গানাইজেশনেরও (আইসিওআর) প্রধান সমন্বয়ক। আজ রোববার (১৮ ডিসেম্বর) বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ‘দি ইউক্রেন ওয়্যার অ্যান্ড দি ওপেন ক্রাইসিস অব দি ইম্পেরিয়ালিস্ট ওয়ার্ল্ড সিস্টেম’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সেমিনারে মূল বক্তব্য উপস্থাপনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মনিকা গার্টনার এঙ্গেল বলেন, ‘বর্তমানে ইউক্রেন যুদ্ধে একটি নতুন অধ্যায়ে শুরু হয়েছে। ইউক্রেন শিবিরে অত্যাধুনিক অস্ত্র ও প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ন্যাটোর বিশেষ ইউনিটের প্রশিক্ষণ রাশিয়াকে প্রতিরক্ষামূলক প্রবণতার দিকে নিয়ে গিয়েছে৷ অন্যদিকে ইউক্রেনের অবকাঠামোর ওপর রাশিয়ার আক্রমণ সরবরাহ ব্যবস্থায় ঘাটতি তৈরি করেছে৷ ফলে জনজীবনে বিরূপ প্রভাব পড়েছে৷ এমন পরিস্থিতিতে জনসাধারণের মধ্যে একটি আন্তর্জাতিক বিপ্লবী উত্থান এবং সর্বোপরি একটি সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের মধ্য দিয়ে সাম্রাজ্যবাদের অবসানের ভিত্তিভূমি হাজির হয়েছে৷ সুতরাং আমাদেরকে পারমাণবিক বিশ্বযুদ্ধের বিরুদ্ধে সব শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করা এবং গভীরভাবে আশাবাদী হতে হবে। কারণ যুদ্ধ-সংকট-শোষণ ও নিপীড়নহীন সমাজের জন্য আমাদের একটি বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনা আছে, যার নাম প্রকৃত সমাজতন্ত্র৷’
তিনি আরো বলেন, ‘নয়া সাম্রাজ্যবাদী রাশিয়া ও পুঁজিবাদী ইউক্রেনের মধ্যকার এই যুদ্ধ দুই পক্ষ থেকেই অন্যায্য৷ শ্রমিক শ্রেণির দৃষ্টিকোণ থেকে কোনো সাম্রাজ্যবাদী বা পুঁজিবাদী যুদ্ধবাজের পক্ষ না নিয়ে শ্রমিক শ্রেণি ও শ্রমজীবী জনগণের পাশে থাকা, সততার সঙ্গে শান্তির পক্ষে থাকা কোনো মানুষ রাশিয়া বা ন্যাটো কারোরই পক্ষ নিতে পারে না৷ ফ্যাসিবাদ ও যুদ্ধের বিরুদ্ধে লড়াইকে একত্রিত করে গণতান্ত্রিক অধিকার ও স্বাধীনতা রক্ষার পক্ষে পরিচালিত করতে হবে। অবশ্যই ফ্যাসিবাদ ও যুদ্ধের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী ফ্রন্ট গড়ে তুলে সমাজতন্ত্রের পথে এগিয়ে যেতে হবে।’
ইউক্রেন যুদ্ধের ফলাফল নিয়ে মার্কসবাদী-লেনিনবাদী এ নেত্রী বলেন, ‘এটি অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, পরিবেশগত ও সামরিক বিশ্ব সংকট সৃষ্টি করেছে৷ এই যুদ্ধ একাধিক সংকট। যেমন— পরিবেশগত, বস্তুতান্ত্রিক, বিশ্ব অর্থনৈতিক, উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, বিশ্ব জুড়ে ক্ষুধা ও বুর্জোয়া শরণার্থী নীতি সংকটকে ঘনীভূত করেছে৷ চলমান যুদ্ধ একটি পারমাণবিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে, যা পুরো পৃথিবীর মানব জাতিকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন৷’
সেমিনারে
আরো উপস্থিত ছিলেন কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, কমরেড খালেকুজ্জামানসহ অন্যরা।










