পরিবেশ আদালত আইনে সংশোধন আসছে। সংশোধিত আইনটি পাস হলে পরিবেশ আইনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি, গোষ্ঠী, জনগণ সরাসরি মামলা করতে পারবেন। আগে যে ক্ষমতা শুধু পরিবেশ অধিদপ্তরের ছিল। বিষয়টি উল্লেখ করে ‘পরিবেশ আদালত আইন, ২০১০ (সংশোধনী) ২০২২’-এর একটি খসড়া সংবলিত চিঠি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিবকে গত ৭ নভেম্বর পাঠিয়েছেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক। বিষয়টি জানানো হয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিকেও।

চিঠিতে বলা হয়, গত ৬ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাপতিত্বে ‘পরিবেশ আদালত আইন, ২০১০ (সংশোধনী) ২০২২’-এর খসড়ার ওপর পরীক্ষা-নিরীক্ষাপূর্বক মতামত প্রদান সংক্রান্ত কমিটির দ্বিতীয় সভার সুপারিশ অনুসারে ‘পরিবেশ আদালত আইন, ২০১৩ (সংশোধনী) ২০২২’ খসড়া আইনটি সংশোধন করে প্রেরণের জন্য অনুরোধ করা হয়। কমিটির সুপারিশ অনুসারে সংশোধিত আইনটি তৈরি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংস্কার ও গবেষণা অনুবিভাগের বাংলা ভাষা বাস্তবায়ন কোষ কর্তৃক প্রস্তাবিত আইনটি প্রমিতকরণ করা হয়। পাশাপাশি আইনের বেশকিছু ধারা সংশোধন করা হয়েছে, ফলে সংশোধিত ধারার সঙ্গে অন্য ধারা শব্দের দ্বৈধতা পরিলক্ষিত হওয়ায় এবং প্রমিতকরণের জন্য কিছু ধারায় শুধু বানান শুদ্ধ করা হয়েছে।

২০১৭ সালে ২৮ মে অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ৩৪তম সভায় ‘পরিবেশ আদালত আইন ২০১০’ এবং ‘পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সংশোধনী ২০১০)’-এর মধ্যে বিদ্যমান সাংঘর্ষিক বিষয়গুলো চিহ্নিতকরণ এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনীর বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান করা হয়। সে পরিপ্রেক্ষিতে পরিবেশ আদালত আইন এবং পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের মধ্যে বিদ্যমান সাংঘর্ষিক বিষয়গুলো চিহ্নিতকরণ এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনীর নিমিত্ত সুপারিশ প্রণয়নের জন্য পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির একটি সাব কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির দেয়া প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই পরে ‘পরিবেশ আদালত আইন ২০১০ (সংশোধনী) ২০২২’-এর প্রাথমিক খসড়া প্রস্তুত করা হয়।

চিঠিতে আরো বলা হয়, বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০)-এর ধারা ১৭ অনুসারে কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী, জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হলে ওই ব্যক্তি, গোষ্ঠী, ক্ষতিগ্রস্ত জনগণ, অথবা তাদের পক্ষে মহাপরিচালক পরিবেশ আদালতে মামলা দায়ের করতে পারবেন মর্মে বিধান রাখা হয়েছে। বিদ্যমান আইনে শুধু মহাপরিচালক বা তার কাছ থেকে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি সরাসরি মামলা দায়ের করতে পারত কিন্তু সংশোধিত আইনে ধারা ৬-এ ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির জন্যও মামলা দায়েরের সুযোগ রাখা হয়েছে। বাংলাদেশের যেকোনো নাগরিক আইনের আশ্রয় নেয়ার বিষয়ে সংবিধানিক অধিকার ভোগ করে থাকে, সেই প্রেক্ষাপটে ‘পরিবেশ আদালত আইন, ২০১০ (সংশোধনী) ২০২২’-এর খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ২০১১ সালের ২২ মার্চ তারিখের বিচার ১/৪পি-১/২০০৮-১৩৩ মূলে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ এবং পরিবেশ আদালত আইন ২০১০-এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে যেসব অপরাধের জন্য অনধিক পাঁচ বছর কারাদণ্ড বা অনধিক ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড বা কোনো কিছু বাজেয়াপ্ত বা বিনষ্ট করার বিধান আছে, সেই সব অপরাধের বিচারের জন্য স্পেশাল ম্যাজিস্টেটরূপে দায়িত্ব পালনের ক্ষমতা প্রদান করা হয়। যেসব অপরাধের জন্য অনধিক পাঁচ বছর কারাদণ্ড বা অনধিক ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড বা এর অধিক দণ্ডের বিধান রয়েছে সেসব অপরাধের বিচার করার জন্য পরিবেশ আদালতের প্রয়োজন রয়েছে।

বিচারিক ক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে পরিবেশ আদালত এবং স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট (পরিবেশ) আদালত নামে দুটি আলাদা আদালত গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে বর্ণিত সব অপরাধের বিচারের জন্য স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সরাসরি মামলা দায়ের করা যায় অথবা ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে থানায় এজাহার দায়ের করতে হয়। থানায় মামলার ক্ষেত্রে অন্যান্য জিআর মামলার মতো পরিবেশ আদালতে স্থানান্তর পর্যন্ত ওই ম্যাজিস্ট্রেটই মামলার দেখভাল করেন এবং পরিবেশসংশ্লিষ্ট যে অপরাধ বিচার করার ক্ষমতা ম্যাজিস্ট্রেটের রয়েছে সেগুলোর বিচারের ক্ষমতায় ওই স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রের আদালতেই হয়।

বিদ্যমান আইনের ধারা অনুসারে পরিবেশ আদালতে কোনো ক্ষতিপূরণ মামলা বিচারের ক্ষেত্রে দেওয়ানি আদালতের সব ক্ষমতা প্রয়োগ করার বিধান রাখা হয়েছে অর্থাৎ স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ মামলা বিচারার্থে গ্রহণের সুযোগ রাখা হয়নি।

চিঠিতে বলা হয়, বিদ্যমান আইনে শুধু মহাপরিচালক বা তার কাছ থেকে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি সরাসরি মামলা দায়ের করতে পারত, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির জন্য সে সুযোগ ছিল না। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির মামলা দায়েরের সুযোগ অন্তর্ভুক্ত করে ‘পরিবেশ আদালত আইন, ২০১০ (সংশোধনী) ২০২২’-এর খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে।