একটা সময়ে ফেনীতে ঘরের আঙিনা ও আশপাশে শখ করেই পেয়ারা বাগান করা হতো। তবে এখন শুধু বাড়ির আঙিনা নয়; পতিত জমিতে বাণিজ্যিকভাবে তৈরি করা হচ্ছে পেয়ারা বাগান। পেয়ারা চাষ করে এরই মধ্যে বেশ কয়েকজন উদ্যোক্তা সফলও হয়েছেন। তাদের দেখাদেখি অনেকেই এগিয়ে এসেছেন পেয়ারা চাষে।

কৃষি বিভাগের তথ্য বলছে, ২০১৫ সালের দিকে জেলার কয়েকজন উদ্যোক্তা স্বল্প পরিসরে পেয়ারা আবাদ শুরু করেন। ভালো ফলন পাওয়ায় ক্রমান্বয়ে বাণিজ্যিক আকারে পেয়ারা আবাদ বাড়তে থাকে। ২০২০ সালে জেলায় ১১৭ হেক্টর জমিতে পেয়ারা আবাদ হয়। এ থেকে ফলন হয় ১ হাজার ৩০০ টন। পেয়ারার পুষ্টিগুণ, স্বাদ ও ফলন ভালো হওয়ায় চলতি মৌসুমে জেলায় আবাদ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮০ হেক্টর জমিতে, যা থেকে অন্তত দুই হাজার টন পেয়ারা পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সদর উপজেলার কালিদহ ইউনিয়নের কে পাহালিয়া এগ্রোর পেয়ারা বাগানে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে সাত একর জায়গাজুড়ে পেয়ারা বাগান তৈরি করা হয়েছে। এখানকার ৩ হাজার ২০০ গাছে থোকায় থোকায় পেয়ারা ঝুলছে।

বাগানের পরিচালক ফরিদ উদ্দিন মাসুদ বলেন, ‘কয়েক বছর আগে কালিদাস পাহালিয়া নদীতীরে পতিত জায়গায় আমরা আটজন উদ্যোক্তা যৌথভাবে সমন্বিত বাগান গড়ে তুলেছি। বাগানে তিন হাজারের অধিক পেয়ারা গাছ রয়েছে। ২০২১ সালের দিকে কৃষি বিভাগের পরামর্শে পেয়ারা গাছ লাগিয়ে ভালো ফলন পেয়েছি। বাগানে বারি-৩, বাউ-৩ ও ৫ এবং থাই জাতের পেয়ারার সবচেয়ে ভালো ফলন পাওয়া গেছে। এসব গাছে বারোমাস ফলন পাওয়া যাচ্ছে। প্রতিটি গাছে বছরে ৬০-৬৫ কেজি পর্যন্ত পেয়ারার ফলন হচ্ছে। অর্থাৎ, বছরে প্রতিটি গাছ থেকে গড়ে ২ থেকে আড়াই হাজার টাকার পেয়ারা পাওয়া যায়। মৌসুম অনুযায়ী ৩০-৭০ টাকা দরে পেয়ারা বিক্রি হয়। অনেকে সরাসরি বাগানে এসেও পেয়ারা সংগ্রহ করেন। এবার অন্তত ১৯২ টন পেয়ারা পাওয়া যাবে।’

সদর উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নেও তিন যুবক পতিত জমিতে গড়ে তুলেছেন জান্নাত এগ্রো নামে একটি বাগান। সেখানে তিন একর জমিতে ১ হাজার ২০০ পেয়ারা গাছ রয়েছে। প্রতিদিনই আশপাশের এলাকা থেকে পেয়ারা সংগ্রহ করতে আসেন ক্রেতারা।

বাগানের পরিচালক তোফায়েল আহাম্মদ রনি বলেন, ‘বাগানে গোল্ডেন-৮ (থাই), মাধবী ও তাইওয়ান পিংক জাতের পেয়ারা গাছ লাগানো হয়েছে। তিন বছর আগে লাগানো প্রতিটি গাছে চলতি বছর আমরা ৪০-৫০ কেজি করে পেয়ারা পাওয়ার প্রত্যাশা করছি। প্রতি কেজি পেয়ারা ৩০-৪০ টাকা পাইকারি দামে বিক্রি করা হয়। আমাদের দেখে আশপাশের অনেকেই এখন পেয়ারা বাগান করা শুরু করেছেন।’

ফেনী সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন বলেন, ‘পেয়ারা গাছ লাগানোর জন্য বেলে ও দোআঁশ মাটি সবচেয়ে বেশি উপযোগী। ফেনীর পতিত জমিতে এ ধরনের মাটি থাকায় চাষীরা বাণিজ্যিকভাবে বারোমাসি পেয়ারা বাগান করছেন। কৃষি বিভাগ থেকে উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা করা হচ্ছে।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক মোহাম্মদ আতিক উল্লাহ বলেন, ‘লাভজনক হওয়ায় ফেনীতে পেয়ারার আবাদ বেড়েছে। জেলায় বর্তমানে ১৮০ হেক্টর জমিতে পেয়ারা বাগান রয়েছে। এসব বাগান থেকে আহরণ করা পেয়ারা জেলার চাহিদা মিটিয়ে আশপাশের জেলায়ও সরবরাহ করা হচ্ছে।’