ঝুঁকি কম এবং লাভ বেশি হওয়ায় সিরাজগঞ্জে অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি উন্নত জাতের আখ চাষ করছেন কৃষক। চলতি মৌসুমে জেলায় এক হাজার হেক্টর জমিতে আখ চাষ হয়েছে, যা থেকে চার হাজার টন গুড় উৎপাদন হবে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

কৃষক জানান, ভালো জাতের আখ না পাওয়া এবং তারা লাভবান না হওয়ায় সিরাগঞ্জে তেমন আখ চাষ হতো না। ছোট পরিসরে কৃষক নিজ উদ্যোগে বিচ্ছিন্নভাবে স্থানীয় জাতের আখ চাষ করতেন। বাংলাদেশ সুগার ক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএসআরআই) সিরাজগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের মাধ্যমে ২০০৭ সাল থেকে উন্নত জাতের আখ চাষ শুরু হয়। শুরুতে ৪০০ হেক্টর জমিতে আখ চাষ হলেও উন্নত জাত, প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, সরকারি প্রণোদনা এবং আখ চাষে কৃষক লাভবান হওয়ায় প্রতি মৌসুমে বাড়ছে আবাদ। চলতি মৌসুমে ৪৩টি প্রদর্শনী ব্লকসহ জেলায় ১ হাজার হেক্টর জমিতে আখ চাষ হয়েছে। এর মধ্যে গবেষণা প্লট রয়েছে ছয়টি। ৮০ শতাংশ আবাদ হয়েছে জেলার চরাঞ্চলে।

উল্লাপাড়া উপজেলার প্রতাপ গ্রামের কৃষক জাহিদুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমি চার বছর ধরে আখ চাষ করছি। আখ চাষের বিষয়ে প্রশিক্ষণও নিয়েছি।’

চলতি মৌসুমে ঈশ্বরদী-৩৭ জাতের আখ আবাদ করেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এখানে আখের ফলন ভালো হয়। আখ মাড়াইয়ের সুগারক্যান ক্রাসার মেশিন হলে প্রক্রিয়াটি সহজ ও সাশ্রয়ী হতো। মেশিন না থাকায় বিপুল পরিমাণ আখ মাড়াই করতে সমস্যা হয়। আখ মাড়াইয়ের মেশিন থাকলে কম সময়ে আখ মাড়াই করা যেত।’ সরকার ভর্তুকি মূল্যে সুগারক্যান ক্রাসার মেশিন দিলে কৃষকের উপকার হতো বলে মনে করেন জাহিদুল ইসলাম।

এ বিষয়ে বিএসআরআই সিরাজগঞ্জ উপকেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ফারিয়া হোসেইন শান্তা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘জেলায় আখ চাষ বাড়ানোর লক্ষ্যে কাজ করছে বিএসআরআই। সংস্থা উদ্ভাবিত ঈশ্বরদী-১৮, ৩৩, ৩৪, ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪০, বিএসআরআই-৪১, বিএসআরআই-৪২, বিএসআরআই-৪৩, বিএসআরআই-৪৪, বিএসআরআই-৪৫ ও বিএসআরআই-৪৬ জাতের আখের আবাদ হচ্ছে সিরাজগঞ্জে। আখ চাষে উদ্বুদ্ধ করতে জেলায় পাঁচ হাজার কৃষককে এক বিঘা করে জমির জন্য বিনামূল্যে সার, বীজ, সেচ খরচ প্রণোদনা হিসেবে দেয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে ৫ লাখ ১৬ হাজার টাকা কৃষকদের প্রণোদনা দেয়া হয়েছে। এ কারণে প্রতি বছরই জেলায় আখের চাষ বাড়ছে। গত মৌসুমে জেলায় ৩ হাজার ৫০০ টন গুড় উৎপাদন হয়েছিল। চলতি মৌসুমে তা বেড়ে ৪ হাজার টন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।’