কৃষক পর্যায়ে সার প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে রংপুরে প্রি-ফ্যাব্রিকেটেড স্টিলগুদাম নির্মাণ করছে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)। তিন হাজার টন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন নন ইউরিয়া সারের গুদামটির নির্মাণ শুরু হয় ২০২৩ সালে। প্রকল্পের মেয়াদ এক বছর থাকলেও নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এ আর কনসোর্টিয়াম। এরপর কয়েক দফা মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। সর্বশেষ চলতি বছরের জুনে কাজটি শেষ করার কথা ছিল। তবে শেষ না হওয়ায় আরেক দফা মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।
রংপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছর জেলায় নন ইউরিয়া (টিএসপি, এমওপি ও ডিএপি) সারের চাহিদা রয়েছে ১ লাখ ৯ হাজার ৮২০ টন। গত বছর চাহিদা ছিল ১ লাখ ১৯ হাজার ৮২০ টন।
তবে বিএডিসি সূত্রে জানা গেছে, জেলায় বর্তমানে সারগুদাম রয়েছে তিনটি। এগুলোর ধারণক্ষমতা ছয় হাজার টন।
বিএডিসির তালিকাভুক্ত ডিলাররা বলছেন, বছরের অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে বিশেষ করে গম, সরিষা, আলু ও ধান আবাদের জন্য মার্চ পর্যন্ত সারের চাহিদা বাড়ে। সে সময় বাইরের জেলা থেকে সার আনতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাদের।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, বিএডিসির বিদ্যমান সারগুদামগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ, পুনর্বাসন ও নতুন গুদাম নির্মাণের মাধ্যমে সার ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম জোরদারকরণ প্রকল্প দ্বিতীয় পর্যায়ের অধীনে নতুন গুদাম নির্মাণের জন্য ২০২২ সালের নভেম্বরে দরপত্র আহ্বান করে প্রকল্প পরিচালকের দপ্তর। দরপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ৮ কোটি ৬৯ লাখ ৮৭ হাজার ১৫৯ টাকা চুক্তিতে রংপুরের আলমনগরে গুদাম নির্মাণকাজ পায় ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এ আর কনসোর্টিয়াম। এক মেয়াদে গুদাম নির্মাণের কার্যাদেশ দেয়া হয় ২০২৩ সালের ২ এপ্রিল।
এ ব্যাপারে বিএডিসির (নির্মাণ) সহকারী প্রকৌশলী (সওকা) সাইফুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘কার্যাদেশের শর্তানুয়ায়ী সাইট হস্তান্তরের সময় থেকে এক বছর শেষ হয়েছে অনেক আগে। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সময়মতো কাজ শেষ করতে পারেনি। নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার জন্য শুধু সময় বৃদ্ধি করে চলেছে। শুনেছি কাজের মেয়াদ আবারো বাড়ানো হয়েছে। যদিও কোনো লিখিত কাগজ এখনো আমরা হাতে পাইনি। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মিত হয়েছে। যেহেতু এটি প্রি-ফ্যাব্রিকেটেড স্টিলগুদাম, তাই স্ট্রাকচার ঢাকার কোনো কারখানায় তৈরি হচ্ছে বলে শুনেছি।’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘প্রকৌশলীদের গুদাম পরিদর্শন করার কথা থাকলেও টিকাদারি প্রতিষ্ঠান সে ব্যবস্থা করেনি। এমনকি তাদের কাজের তথ্যসংবলিত সাইনবোর্ড টানাতে বলা হলেও তারা শুনছে না। সব মিলিয়ে কাজের অগ্রগতি হয়েছে ৭০ শতাংশ।’
তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এ আর কনসোর্টিয়ামের প্রোপ্রাইটর মো. ওয়াহিদুজ্জামান স্বাধীন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘গত বছরের জুনে কাজের মেয়াদ শেষ হয়েছে। ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কাজের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।’
জুলাই আন্দোলনের কারণে গুদামের কাজ সঠিক সময়ে শেষ করা সম্ভব হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আশা করি ডিসেম্বরের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ হবে।’
কাজের তথ্যসংবলিত সাইনবোর্ড না থাকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জুলাই আন্দোলন চলাকালীন দুর্বৃত্তরা সাইনবোর্ডসহ আরো বেশকিছু মালপত্র চুরি করে নিয়ে গেছে।’
সার্বিক বিষয়ে বিএডিসির নির্বাহী প্রকৌশলী হুসাইন মোহাম্মদ আলতাফ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সর্বশেষ কাজের মেয়াদ শেষ হয়েছে চলতি বছরের ৩০ জুন। শুনেছি আরো এক দফা মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। তবে লিখিত কোনো কাগজ আমাদের কাছে আসেনি। এখানে যেহেতু স্টিল স্ট্রাকচার তৈরি হয় না। তাই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ঢাকায় এটি তৈরি করছে।’
গুদাম নির্মাণে আর কতদিন লাগতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যদি স্টিল স্ট্রাকচার তৈরি হয়, তাহলে এটি সেট করতে এক-দেড় মাস লাগবে।’ তবে কবে নাগাদ স্ট্রাকচার রংপুরে আসবে তিনি তা বলতে পারেননি।










