চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় কনকনে শীতের মধ্যে সড়কের পাশ থেকে উদ্ধার হওয়া দুই শিশুর মধ্যে দুই বছর বয়সী একজন মারা গেছে।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) বিকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (এনআইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
গত ২৮ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় আনোয়ারা উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের মাজারগেট এলাকা থেকে দুই শিশুকে উদ্ধার করা হয়। কনকনে শীতের মধ্যে সড়কের পাশে বসে থাকা শিশু দুটিকে প্রথমে নিজের কাছে আশ্রয় দেন মহিম উদ্দিন নামের স্থানীয় এক অটোরিকশা চালক। ঘটনাটি জানাজানি হলে উপজেলা প্রশাসন শিশু দুটিকে হেফাজতে নেয়।
পরবর্তীতে আনোয়ারার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার দুই শিশুকে নিয়ে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকের কাছে যান। জেলা প্রশাসন শিশুদের চিকিৎসা ও আনুষঙ্গিক ব্যয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করে। তুলনামূলকভাবে সুস্থ থাকায় চার বছর বয়সী মেয়ে শিশুটিকে অটোরিকশাচালক মহিম উদ্দিনের জিম্মায় দেয়া হয়। তবে গুরুতর অসুস্থ হওয়ায় দুই বছর বয়সী ছেলে শিশুটিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক সপ্তাহ পর তার মৃত্যু ঘটে।
পুলিশ জানায়, শিশুদের বাবা খোরশেদ আলম খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার বাসিন্দা। তিনি চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার মিয়ারবাজার এলাকায় রিকশা চালাতেন। শিশুদের মা ছয় মাস আগে দুই সন্তানকে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়।
ঘটনাটি নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর আদালত বিষয়টি আমলে নেন। চট্টগ্রাম জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে আনোয়ারা থানায় মামলা নেয়া হয় এবং ‘শিশু আইন ২০১৩’ অনুযায়ী কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, সে বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়। আদালতের আদেশের পর পুলিশ শিশুদের বাবা খোরশেদ আলমকে গ্রেফতার করে।
ইউএনও তাহমিনা আক্তার জানান, মৃত শিশুটির দাদি মরদেহ নিতে চট্টগ্রামে এসেছেন। মানিকছড়ির ইউএনওর সঙ্গে সমন্বয় করে শিশুটির মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বেঁচে থাকা শিশুটির ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার বিষয়েও পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।















