লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় টিআর ও কাবিখা-কাবিটা প্রকল্পের ভাগাভাগি নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানের সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতি, মারধর ও অফিস ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জেসমিন নাহার। সোমবার দুপুরে হাতীবান্ধা উপজেলা পরিষদ ভবনে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও উপজেলা পরিষদ সূত্রে জানা যায়, হাতীবান্ধা উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে টিআর ও কাবিখা-কাবিটা প্রকল্পের ভাগাভাগি নিয়ে জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরের টিআর ও কাবিখা-কাবিটার উপজেলা পরিষদের বরাদ্দ ২০ লাখ টাকার ২০ ভাগের ভাগাভাগি নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মামুনের সাথে দুই ভাইস চেয়ারম্যানের বাকবিতণ্ডা হয়। এ সময় জেসমিন নাহার উপজেলা চেয়ারম্যানকে গালিগালাজ করেন। এক পর্যায়ে উপজেলা চেয়ারম্যান নিজের অফিস ত্যাগ করে চলে যান। খবর পেয়ে উপজেলা চেয়ারম্যানের ছোটভাই ও চাচাসহ তার লোকজন গিয়ে জেসমিন নাহারের অফিস ভাঙচুর করেন। এসময় ভাইস চেয়ারম্যান জেসমিন নাহার ও তার স্বামীকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
এদিকে এ ঘটনায় উপজেলা চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মামুন ও ভাইস চেয়ারম্যান জেসমিন নাহার একে অপরকে দায়ী করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
হাতীবান্ধা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মিরু ও জেসমিন নাহার অভিযোগ করে বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মামুনের চাচা ও ভাইসহ কিছু লোকজন জেসমিন নাহারের অফিস ভাঙচুর করাসহ তার স্বামী সুলতান আহমেদ রাজনকে মারধর করেছেন। অফিসে থাকা জাতির পিতা ও প্রধানমন্ত্রীর ছবিও ভাঙচুরের অভিযোগ করেন তিনি। টিআর, কাবিখা-কাবিটা ও এডিবির প্রকল্প ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে ঘটনার সূত্রপাত হয় বলে স্বীকার করেন তিনি।
ভাইস চেয়ারম্যানদ্বয় আরও বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মামুনের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ করা হবে। তিনি নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই এককভাবে সবকিছু করছেন কিন্তু আমাদেরকে কোনো প্রকল্পই দিচ্ছেন না। আমরা জনগণকে কী সেবা দিব?
অন্যদিকে, হাতীবান্ধা উপজেলা চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মামুন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি দুই ভাইস চেয়ারম্যানকে বহিষ্কারের জন্য তাদের অনিয়ম ও সাধারণ মানুষের লিখিত অভিযোগ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে জানাবো।
এ বিষয়ে হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজির হোসেন বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইনচেয়ারম্যানের মধ্যে যে ঘটনাটি ঘটেছে তা দুঃখজনক। এ বিষয়ে তারা যদি আইনি ব্যবস্থা নিয়ে থাকেন তাহলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।