উজান থেকে নেমে আসা ও বৃষ্টিপাতের ফলে টাঙ্গাইলের যমুনা, ধলেশ্বরী ও ঝিনাই নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যার ফলে জেলায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার টাঙ্গাইলের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সিরাজুল ইসলাম জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি ৮ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৫৮ সেন্টিমিটার দিয়ে ওপর প্রবাহিত হচ্ছে। ধলেশ্বরী নদীর পানি ৭ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৬৪ সেন্টিমিটার এবং ঝিনাই নদীর পানি ৯১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
যেসব এলাকা ভাঙনের শিকার হচ্ছে সেসব এলাকায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও টাঙ্গাইলের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান।
এদিকে, বিভিন্ন নদীর পানি বাড়ায় টাঙ্গাইল সদর, কালিহাতী, ভুঞাপুর, মির্জাপুর, বাসাইল ও নাগরপুরে শহর রক্ষা বাঁধে ঝুঁকি দেখা দিয়েছে।
কালিহাতী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন জানান, ভৈরববাড়ী, আলীপুরসহ কয়েকটি গ্রামে প্রায় দুইশ পরিবার গত এক মাস ধরে গৃহহীন অবস্থায় রয়েছে। এবারে বর্ষায় যমুনা নদীর ভাঙনে ঘরবাড়ী হারিয়ে ভুক্তভোগীরা আশপাশের গ্রামে আশ্রয় নিয়েছে।
তিনি বলেন, নতুন করে পানি বৃদ্ধি পাওয়া আমার ইউনিয়নে প্রায় প্রতিটি গ্রামে পানি ঢুকেছে। ফলে শত শত পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গেছে, বন্যাকবলিত এলাকার ভুক্তভোগী কৃষকদের ফসলী জমির প্রায় ৩৫ হেক্টর জমির আমন ধান পানিতে তলিয়ে গেছে।
টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ড. মো. আতাউল গনি বলেছেন, ‘বন্যাকবলিত এলাকায় বানভাসি মানুষের জন্য সবসময় কাজ চলছে। নদী ভাঙনের ফলে ভুক্তভোগী মানুষের জন্য চাল-ডালসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি বাড়ি ভাঙনের জন্য ৫ হাজার টাকা অর্থিক সহায়তা দিয়েছি।’










