শহুরে এলাকার বর্জ্যের একটা বিরাট অংশ হচ্ছে পলিথিন বা প্লাস্টিক। উপাদানগত দিক থেকে পলিব্যাগগুলো মানুষ ও অন্যান্য প্রাণী, পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। পরিবেশ দূষণ রোধে যাবতীয় প্লাস্টিক শপিং ব্যাগ ও পলিথিনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্বে আসার পর ১ অক্টোবর থেকে সুপারশপে পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধ করা হয়। এক মাস পর ১ নভেম্বর থেকে কাঁচাবাজারগুলোয় পলিথিন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে অভিযানের কথা জানানো হয়। তবে গাজীপুরে বন্ধ হয়নি পলিথিন উৎপাদন। আবাসিক এলাকায় স্থাপিত অনুমোদনহীন ভবনে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এ পলিথিন উৎপাদন অব্যাহত রয়েছে। শুধু উৎপাদনই নয়, কারখানার রাসায়নিক মিশ্রিত বায়ু ও শব্দদূষণেও অতিষ্ঠ এলাকাবাসী।

২০০২ সালের ১ মার্চ আইন করে পলিথিন উৎপাদন, বিপণন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করে সরকার। তবে দেশে পলিথিনের ব্যবহার কমেনি; বরং গত দুই দশকের বেশি সময় ধরে উৎপাদন ও ব্যবহার বাড়তে দেখা গেছে। এরপর ২০১০ সালে আরেকটি আইন করে সরকার। সে আইনও বাস্তবে কোনো কাজে আসেনি। ২০২৪ সালে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর ১ নভেম্বর কাঁচাবাজারে পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধ করা হয়। এর আগে ১ অক্টোবর থেকে সুপারশপে পলিথিন বা পলিপ্রোপাইলিনের ব্যাগ নিষিদ্ধ করা হয়।

মন্ত্রণালয় বলছে, কোনো সুপারশপ যদি পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার করে তাহলেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। সরকারের এ নির্দেশ যারা অমান্য করবে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা, দীর্ঘদিন ধরে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ভুরুলিয়া আবাসিক এলাকায় কারখানা স্থাপন করে পলিথিন উৎপাদন করা হচ্ছে। কাটি বাংলাদেশ লিমিটেড নামের ওই কারখানার মালিক মো. কবির শাহাদাত। কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়াই আবাসিক এলাকায় কারখানা স্থাপন করে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পণ্য উৎপাদন করছেন তিনি। আবাসিক এলাকায় এ ধরনের কারখানা পরিচালনা করায় স্থানীয়রা মৌখিকভাবে আপত্তি জানালেও কারখানা কর্তৃপক্ষ কর্ণপাত করেনি। গাজীপুর পরিবেশ অধিদপ্তর ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে গত ১০ মার্চ কারখানার মালিককে ২ লাখ টাকা জরিমানা ও ১২ হাজার কেজি পলিথিন ব্যাগ জব্দ করেন।

ভবনের অনুমোদিত নকশা চেয়ে গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গত ১৫ জানুয়ারি নোটিস জারি করলে কারখানা কর্তৃপক্ষ কোনো জবাব দেয়নি। পরে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কারখানাটি পরিদর্শন করে। পরিদর্শনের সময়ও কারখানার মালিকপক্ষ কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের পরিদর্শক মাসুদুর রহমান জানান, কারখানার স্থাপনার বৈধতার কোনো কাগজপত্র নেই। এ ব্যাপারে তাদের নোটিস দেয়া হলেও কোনো জবাব মেলেনি। তারা আরো একটি নোটিস দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সন্তোষজনক জবাব না পেলে কারখানা উচ্ছেদের জন্য আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কোনো আবাসিক এলাকায় এ ধরনের কারখানা পরিচালনা করা অবৈধ। এখানে নিষিদ্ধ পলিথিন উৎপাদন করা হচ্ছে। উৎপাদন প্রক্রিয়ায় নির্গত কেমিক্যাল মিশ্রিত ধোঁয়া ও শব্দদূষণের কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা অতিষ্ঠ।

এ ব্যাপারে গাজীপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আরেফিন বাদল বণিক বার্তাকে বলেন, ‘কারখানাটিকে জরিমানা করেছিলাম। সে সময় কারখানার মালিক পক্ষকে বলা হয়েছিল উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রাখার জন্য। যেহেতু তারা উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রাখেনি শিগগিরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এ ব্যাপারে কারখানার মালিক কবির শাহাদাত বলেন, ‘অবৈধ কোনো কিছু থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। আমি এ বিষয়ে এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে চাই না।’