উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টিতে জুলাইয়ের প্রথম দিকে সিরাজগঞ্জে বন্যা দেখা দেয়। তলিয়ে যায় বিভিন্ন ফসলের খেত। এরই মধ্যে নেমে গেছে বন্যার পানি। তবে রেখে গেছে ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন। সাম্প্রতিক বন্যায় জেলার ৩৭ হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। প্রায় ৬৩ কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে। এ কারণে অনেক কৃষক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। যদিও কৃষি বিভাগ বলছে, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা করে তাদের সহযোগিতা করা হবে।

সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও অধিক বৃষ্টিতে যমুনা নদীতে পানি বাড়ার কারণে চর ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। এ সময় নদীতীরবর্তী সিরাজগঞ্জ সদর, কাজীপুর, বেলকুচি, শাহজাদপুর ও চৌহালী  উপজেলায় পাট, তিল, আউশ, আমন বীজতলা ও সবজিসহ ৬ হাজার ৫২৫ হেক্টর জমির ফসল পানিতে নিমজ্জিত হয়।

এর মধ্যে পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায় ৩ হাজার ১৮৫ হেক্টর ফসলি জমির ফসল। ক্ষতিগ্রস্ত হয় ৩৭ হাজার ৪৬ কৃষক। পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাওয়া ফসলের ক্ষতির পরিমাণ ৬২ কোটি ৭৮ লাখ ৩ হাজার টাকা।

কাজীপুর উপজেলার তেকানী গ্রামের সুরুজ আলী জানান, তিন বিঘা জমিতে তিনি পটল আবাদ করেছিলেন। বন্যার পানিতে তলিয়ে সব জমির ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। এতে তার ১৫ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। এখন সংসার কীভাবে চলবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি।

সদর উপজেলার কাওয়াকোলা গ্রামের মন্টু মিয়া জানান, তিনি ছয় বিঘা জমিতে লাউ, কুমড়া এবং দুই বিঘা জমিতে পাট চাষ করেন। বন্যায় পাটের তেমন ক্ষতি না হলেও লাউ, কুমড়ার চারা পচে নষ্ট হয়ে গেছে। এতে তার প্রায় ২৫ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বাবলু কুমার সূত্রধর  জানান,  চলতি মৌসুমে জেলায় ব্যাপক আকারে বন্যা হয়নি। তবে জুলাইয়ের তিন সপ্তাহের বন্যায় চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের পাট, তিল, আউশ, আমন বীজতলা ও সবজিসহ অন্যান্য ৬ হাজার ৫২৫ হেক্টর জমির ফসল পানিতে তলিয়ে যায়। এর মধ্যে পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায় ৩ হাজার ১৮৫ হেক্টর জমির ফসল। 

বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কৃষককে সহায়তায় ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবে। সহায়তা পেলে কৃষক কিছুটা ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবেন।