লালমনিরহাট জেলায় ৮৬ হাজার ৫৮৫ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৮৬ হাজার ৬৪০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধান চাষ হয়েছে। এ বছর চাষীরা সময়মতো বীজ, সার ও কীটনাশক হাতের কাছে পাওয়ায় এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় রোপা আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে। জেলায় ২ লাখ ৬৫ হাজার ১৫৫ টন চাল উৎপাদনের আশা করছে লালমনিরহাট কৃষি বিভাগ।

এ বিষয়ে লালমনিরহাট খামারবাড়ীর অতিরিক্ত কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা (পিপি) মো. আলীনূর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘রাজস্ব খাতের মাধ্যমে কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে রোপা আমন ধানের বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। আগাম জাতের ধান বীজ ও কীটনাশক বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া গ্রামে গ্রামে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের রোপা আমন ধান পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন।’

লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলায় ১৬ হাজার ৫৫৩ হেক্টর জমিতে লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আবাদ হয়েছে ১৯ হাজার ৫৫৩ হেক্টর। আদিতমারী উপজেলায় ১৩ হাজার ৬৮৭ হেক্টর জমির বিপরীতে আবাদ হয়েছে ১৩ হাজার ৬৮৭ হেক্টর। কালীগঞ্জ উপজেলায় ১৭ হাজার ২৮৩ হেক্টর জমির বিপরীতে আবাদ হয়েছে ১৭ হাজার ২৮৩ হেক্টর। হাতীবান্ধা উপজেলায় ১৯ হাজার ৫১০ হেক্টর জমির বিপরীতে আবাদ হয়েছে ১৯ হাজার ৫২০ হেক্টর। পাটগ্রাম উপজেলায় ১৯ হাজার ৫৪৫ হেক্টর জমির বিপরীতে রোপা আমন ধান আবাদ হয়েছে ১৯ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে। প্রতি হেক্টর জমিতে উৎপাদিত ধান থেকে ৩ দশমিক ৬ টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ।

লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (ডিডি) মো. হামিদুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এ বছর বন্যার তেমন কোনো আগ্রাসন না থাকায় জেলায় চাষীরা আমন ধানের ভালো ফলনের আশা করছেন। মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে জেলায় ৮৬ হাজার ৫৮৫ হেক্টর জমিতে রোপা আমনের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৮৬ হাজার ৬৪০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধান চাষ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে গড় ৩ দশমিক ৬ টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। জেলায় ২ লাখ ৬৫ হাজার ১৫৫ টন চাল উৎপাদন হবে।’

হাতীবান্ধা উপজেলার সিঙ্গিমারী ইউনিয়নের রোপা আমন ধানচাষী আনসার আলী ও পাটগ্রাম উপজেলার জগৎবেড় ইউনিয়নের রোপা আমন ধানচাষী মজিবর রহমান বলেন, ‘সঠিক সময়ে বৃষ্টিপাত, সার, বীজ এবং কীটনাশক পাওয়ায় ধান চাষে কোনো সমস্যা হয়নি। ফলে এবার অন্য বছরের তুলনায় আমন ধান খুবই ভালো হয়েছে।’

পাটগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. আব্দুল গাফফার বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সময়মতো বৃষ্টিপাত হওয়ায় কৃষক ধানের চারা সঠিক সময়ে রোপণ করতে পেরেছে। এছাড়া বন্যার আগ্রাসনও তেমন ছিল না। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার যেকোনো সময়ের তুলনায় ধানের ভালো ফলন আশা করা হচ্ছে। ধান উৎপাদন ভালো হওয়ার আশায় কৃষকের মাঝে হাসিভাব লক্ষ্য করা গেলেও বাজারদর পাওয়া নিয়ে কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।’