দখলে দূষণে হারিয়ে যেতে বসেছে বগুড়ার বিভিন্ন খাল। জেলায় বেশকিছু উপজেলার এলাকা দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে ২৫টি খাল। এ খালগুলোর বেশির ভাগই তলদেশ ভরাট হয়ে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও আবার খালের পাড় দখল করে ভবন নির্মাণকাজ চলছে। ময়লা-আবর্জনা ফেলায় খালের পানিতে দূষণ বেড়েছে। যে কারণে খালে দেশীয় মাছ বিলুপ্তের পথে।
বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, পানি উন্নয়ন বোর্ডের হিসাবে জেলায় ২৫টি খাল রয়েছে। এ খালগুলো বিভিন্ন এলাকার বিল থেকে সৃষ্টি হয়ে কয়েক কিলোমিটার প্রবাহিত হওয়ার পর কোনো না কোনো নদী বা অন্য কোনো খালের সঙ্গে মিশে গেছে। এসব খাল যেমন পানি নিষ্কাশনে ভূমিকা রাখত, তেমনি দেশীয় মাছের আধার ছিল। শুষ্ক মৌসুমে খালের পানি দিয়ে চাষীরা চাষবাদ করতেন। কিন্তু দিন দিন এসব খাল নানা কারণে হারিয়ে যেতে বসেছে। খালগুলোয় এখন তেমন আর পানি প্রবাহিত হয় না।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খালগুলোর প্রবাহের মুখে বিভিন্নভাবে বাঁধার সৃষ্টি করা হয়েছে। জেলার ২৫টি খালের অবস্থাই অত্যন্ত নাজুক। দূষণ ও দখলে খালগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। খালে ফেলা হচ্ছে ময়লা-আবর্জনা, বাসাবাড়ির ড্রেনের মুখ, পাড় দখল করে স্থাপনা তৈরির ফলে খালগুলো মরে যাচ্ছে। খাল হারিয়ে যাওয়ার কারণে একটু বৃষ্টিতেই জলাশয় সৃষ্টি হয়ে শহরে ডুবে যাচ্ছে পথঘাট আর গ্রামে ডুবে যাচ্ছে আবাদি জমি।
বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, জেলায় যে ২৫টি খাল রয়েছে তার বেশির ভাগই সৃষ্টি হয়েছে স্থানীয় বিল থেকে। বর্ষাকালে খালগুলো দিয়ে পানি নিষ্কাশন হলেও শুষ্ক মৌসুমে ড্রেনের কালো পানি নিয়ে প্রবাহিত হয়। কোনো কোনো স্থানে খালের মানচিত্র হারিয়ে গিয়েছে।
বগুড়া সদর উপজেলার নুরুইল বিল থেকে সৃষ্টি সামুঞ্জা খাল তিন কিলোমিটার প্রবাহিত হওয়ার পর করতোয়া নদীর সঙ্গে মিশে গেছে খালটি। বগুড়া শহরের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া সুবিল খালটি এখন নামেই রয়ে গিয়েছে। দখল আর দূষণের কবলে পড়ে খালটি এখন সরু হতে হতে বড় একটি ড্রেনে পরিণত হয়েছে। বাসাবাড়ির ড্রেনের পানি বয়ে নিয়ে যাচ্ছে খালটি। খালটির বিভিন্ন অংশ দখল হয়ে গিয়েছে। ফেলা হচ্ছে ময়লা-আবর্জনা। একসময় এ খালে প্রচুর মাছ পাওয়া গেলেও এখন তেমন মাছ ধরা পড়ে না।
জেলা শহরের মালগ্রাম বিল থেকে বের হয়ে যাওয়া মালগ্রাম খালটিরও এখন একই অবস্থা। এ খালটি ঠনঠনিয়া পশ্চিমপাড়া হয়ে শাজাহানপুর উপজেলার ফটকি এলাকা হয়ে প্রায় ১৬ কিলোমিটার বয়ে গিয়ে করতোয়া নদীতে মিশেছে। খালটির বিভিন্ন অংশ দখল হয়ে গিয়েছে। খাল দখল করে নির্মিত হয়েছে বিভিন্ন স্থাপনা। এছাড়া আরো কিছু খাল রয়েছে সেগুলো হলো নাগরজানি খাল, কালাইহাটা খাল, বিডি খাল, পেচিবাড়ি খাল, ভদ্রাবতী, গবরধন খাল, কুতুবপুর খাল, ভাগনার খাল, তারাশির খাল, চিকাবালা খাল, কৃষ্ণপুর খাল, বারমাসি খাল, গেন্দাখালী খাল, শিলদহবাড়ী খাল, নাদান খাল, দারা খাল, এবিসি খাল, ইএফ খাল, জিয়া খাল, রণজিতপুর খাল, নিমতলী খাল, জিয়ানগর চামরুল খাল, জামালপুর রেগুলেটর খাল, বৈতগাড়ী, রৈলিয়া ও দিবাহাড়ী খাল।
জানা যায়, এসব খালের মধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে কয়েকটি সংস্কার করা হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। ২০১৮-১৯ এবং ২০১৯-২০ অর্থবছরে মোট ১০টি খাল খনন করা হয়েছে। এ ১০টি খালের পাড় বেঁধে দেয়া ও তলদেশে খনন করা হয়েছে। এ ১০টি খাল খননে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৭ কোটি ২৪ লাখ টাকা। কাজগুলো ঠিকাদারের মাধ্যমে খনন করা হয়েছে। কিন্তু খননের পরও খালগুলো তার অতীত ফিরে পায়নি। এখনো বেহাল দশা হয়ে পড়ে আছে।
বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আসাদুল হক জানান, শ্যাওড়াবিল নামক প্রকল্পের নামকরণ করে বগুড়া শহরের সুবিল খাল, মালগ্রাম বিল ও করতোয়া নদী খনন, তীর সংরক্ষণ, পাড় মেরামত করার জন্য একটি প্রস্তাবনা করা হয়েছে। প্রস্তাবটি মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। প্রস্তাবটি পাস হলে দুটি খাল ও একটি নদী সংস্কার করার উদ্যোগ নেয়া হবে। এর আগে বগুড়ার বেশকিছু খাল সংস্কার করা হয়েছে। সংস্কারের ফলে ওই এলাকার কৃষিকাজের জন্য চাষীরা পানি ব্যবহার করতে পারছেন।










