ভারতের মেঘালয়ে কয়েক দিনের বৃষ্টিপাতে সুনামগঞ্জের নদ-নদীতে পানি বাড়ছে। এতে বন্যা মৌসুমের আগেই উজানের ঢলে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার টাঙ্গুয়ার হাওরের নজরখালী বাঁধ ভেঙে গেছে।
গতকাল সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বাঁধ ভেঙে হাওরে পানি প্রবেশ করে।
এ বাঁধ দিয়ে পানি প্রবেশ করে উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের গইনা কড়ি হাওর, এরাইল্লার হাওর, সন্ন্যাসী হাওর, পইল্লার বিল হাওরের বোরো ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষক।
এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এ বাঁধটি ফসল রক্ষার বাঁধ নয়। এটি বিশেষ বরাদ্দের বাঁধ। কারণ এটি গ্রামবাসীর অনুরোধে দেয়া হয়েছে। এটা প্রকল্পের বাইরের যেমন কিছু
জায়গা থাকে নিচু বা ভাঙা সেই জায়গাগুলো যেভাবে মেরামত করতে বিশেষ বরাদ্দ দেয়া হয়, এটাও তেমন সভায় আলোচনা করে দেয়া হয়েছে।
জানা গেছে, টাঙ্গুয়ার হাওরের প্রায় ১২০ হেক্টর জমিতে ধান চাষ করা হয়েছে। তাহিরপুর অংশে ২৫ হেক্টর জমি পড়েছে। বাঁধটি মেরামতের জন্য বর্ধিত করে ২৪ নং পিআইসির অধীনে দেয়া হয়েছে। প্রকল্পে ৯ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে পাউবো। পিআইসির সভাপতি সেন্টু এ বাঁধ নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করেন।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন, ফসল রক্ষাবাঁধ হোক বা পানি আটকানোর জন্যই দেয়া হোক, এত টাকা ব্যয় করার পর কেন বাঁধ ভেঙে যায়?
ফসল রক্ষার বাঁধ না হলেও এটি তো নিশ্চয়ই উপকারের জন্য দেয়া হয়েছিল। কিন্তু বাঁধটি ভেঙে যাওয়ার ফলে অন্য হাওরের কৃষকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে অজানা আতঙ্ক। ফলে নদীর পানি যত বাড়বে হাওরের ধান রক্ষা ততই কঠিন হয়ে পড়বে।
হাওরের কৃষক সাজিনুর মিয়া জানান, বাঁধের কাজে অনেক গাফিলতি রয়েছে। এ বাঁধ ভাঙার পর কৃষক দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। অনেকে ঋণ করে জমি আবাদ করেন। এবার যদি গোলায় ধান না ওঠে অনেক কৃষক পথে বসার উপক্রম হবেন।
কৃষক আব্দুল আউয়াল বলেন, অনিয়ম, দুর্নীতি ও গাফিলতির কারণে বাঁঁধ ভেঙে গেছে। এবার গোলায় ধান তুলতে পারব কিনা তা নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় আছি।
হাওর নিয়ে কাজ করা সংগঠন হাওর এরিয়া আপলিফটমেন্ট সোসাইটির (হাউস) নির্বাহী পরিচালক সালেহিন চৌধুরী শুভ বলেন, বাঁধ তদারকির কাজ উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের। কিন্তু তারা এ কাজে ব্যর্থ হয়ে নজরখালী বাঁধ ভাঙার ব্যাপারটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছেন। বাঁঁঁঁঁধের কাজ খুবই নিম্নমানের হয়েছে, তাই এটি ভেঙেছে।
আমরা এ বিষয় নিয়ে আন্দোলনে যাব।
হাওর বাঁচাও আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায় বলেন, হাওরে বাঁধ নির্মাণকাজ শুরু থেকে অনিয়ম, দুর্নীতি নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছিল। কাবিটা নীতিমালা কমিটিকে আমরা আগে থেকেই সতর্ক করে দিয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের কথা কেউ শুনেনি। হাওরের বাঁধ ভেঙে যাওয়ার দায়ভার প্রশাসনকে নিতে হবে। তাদের গাফিলতিতে কৃষকদের স্বপ্ন ভেঙে যাচ্ছে। আতঙ্কে আছে হাওরবাসী। আমরা সুনামগঞ্জ জেলাজুড়ে আন্দোলন শুরু করব।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রায়হান কবির জানান, এটি মূলত ফসল রক্ষার বাঁধ নয়।
আমি ঘটনাস্থলে এসেছি। এদিকে পানি প্রবেশ করায় নদীর পানির চাপ কমবে। অন্য হাওরের দিকে আর যাবে না। টাঙ্গুয়ার হাওরে কৃষকরা সাহস করে নিজ উদ্যোগে ফসল রোপণ করেছেন।
তাহিরপুর অংশে মাত্র ২৫ হেক্টর জমি হবে।
তাই আতঙ্কের কিছু নেই। আমরা সব সময় নজর রাখছি। আর এ বাঁধটি মূলত গ্রামবাসীর অনুরোধে করা হয়েছে বিশেষ বরাদ্দে মাধ্যমে।
সুনামগঞ্জ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শামসুদ্দোহা জানান, বাঁধটি প্রকল্পের বাইরের। ওই জায়গায় কিছু ভাঙা অংশ ছিল সেটি মেরামত করা হয়েছে বিশেষ বরাদ্দের মাধ্যমে। এ বাঁধ দিয়ে পানি উপচে পড়ছে। এটি কোনো ফসল রক্ষা বাঁধ নয়। টাঙ্গুয়ার হাওর রামসার সাইট ঘোষণা করা হয়েছে। এখানে ফসল লাগানোর কথা না।










