ঔষধি গুণ থাকায় বেশ চাহিদা রয়েছে লটকনের। দেশে সবচেয়ে বেশি লটকন উৎপাদন হয় নরসিংদীতে। জিআই পণ্যের স্বীকৃতিও পেয়েছে নরসিংদীর এ ফলটি। তবে এবার বৈরী আবহাওয়ায় ফলন নেমেছে অর্ধেকে। চাষীরা বলছেন, চলতি বছর লটকনের ফলন খুবই কম হয়েছে। যে বাগান গত বছর ৮ লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছে, সেটিই এখন বিক্রি হচ্ছে ৪ লাখ টাকায়। প্রতি গাছে ৩৪ কেজি ফল ধরলেও এবারে মিলতে পারে ১৫-২০ কেজি। ফলন অর্ধেকে নেমে আসায় রফতানিতে বড় ধাক্কার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, জেলায় ১ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে লটকনের বাগান রয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩২ হাজার ৪০০ টন।

প্রতি বছর মাঘ-ফাল্গুনে লটকন গাছে মুকুল আসে। জ্যৈষ্ঠ মাসের শেষে তা পাকতে শুরু করে। বেলে ও দো-আঁশ মাটিতে এর ফলন ভালো হয়। লটকন ফলনে তেমন কোনো খরচ নেই। গাছ লাগিয়ে একটু পরিচর্যা করতে হয়। গাছের গোড়ার চারদিকে জৈব সার দিলে ফলন ভালো হয়।

পাইকাররা বলছেন, ফলন কম হওয়ায় মণপ্রতি ক্রয়মূল্য বাড়বে এক থেকে দেড় হাজার টাকা বেশি। এছাড়া আনুষঙ্গিক খরচ মিলিয়ে প্রভাব পড়বে খুচরা দামে।

রফতানি বাড়ানোসহ বিভিন্ন বিষয়ে নিয়মিত পরামর্শের পাশাপাশি চলতি মৌসুমে উৎপাদন কম হওয়ার বিপরীতে নেয়া পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ।

নরসিংদী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মো. আব্দুল হাই বলেন, ‘লটকনের ফুল আসার সময় প্রচণ্ড তাপমাত্রা ও খরার কারণে ফুলগুলো মরে গেছে। পাশাপাশি বাগানগুলোর বয়সও অনেক বেশি। কৃষি গবেষণা বিভাগ এটা নিয়ে কাজ করছে। শিগগিরই এর সমাধান পাওয়া যাবে।’