গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার কিশোরগাড়ী ইউনিয়নের জাফর গ্রামসংলগ্ন মচ্চ নদীর আমবাগান ঘাটে একটি সেতুর অভাবে ১০ গ্রামের মানুষের ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। এলাকার মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা বাঁশের সাঁকো। এলাকাবাসীর দাবি, এখানে দ্রুত একটি পাকা সেতু নির্মাণ করে যাতায়াতে ভোগান্তির অবসান ঘটানো হোক।

জানা যায়, গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার কিশোরগাড়ী ইউনিয়নের সীমানা দিয়ে ঘেঁষে যাওয়া মচ্চ নদীর একটি ঘাটের নাম  আমবাগান। ৫০-৬০ বছরের পুরনো ঘাট এটি। এ ঘাট হয়ে প্রায় ১০ গ্রামের মানুষ চলাচল করে। আবার নদীর পানি দিয়ে সেচকাজ করে কৃষিজমি উৎপাদনমুখী করে রাখেন স্থানীয় কৃষক। এলাকায় ধান, পাটের পাশাপাশি কলা ও বিভিন্ন ধরনের সবজির ফলন হয়ে থাকে। চাষ করা সেসব সবজি নদী পার হয়ে প্রতিনিয়ত হাটমুখী হতে হয় চাষীদের। চাষীরা ছাড়াও সেতু দিয়ে এলাকার স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থীরা চলাচল করে।

চলাচলের জন্য স্থানীয়রা একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে। সেটিও প্রায় এক যুগ নড়বড়ে হয়ে গেছে। যেকোনো সময় সেটি ভেঙে নদীতে পড়তে পারে। বাঁশের সাঁকো দিয়ে নদী পার হতে হয় উপজেলার কিশোরগাড়ী ইউনিয়নের জাফর, মুংলিশপুর, পালপাড়া, শীলপাড়া, গনকপাড়া, হাসানখোর, রামচন্দ্রপুর, জাইতরসহ অন্তত ১০ গ্রামের মানুষকে। এছাড়া যোগযোগের জন্য নদীপাড়ের হোসেনপুর ইউনিয়নসহ দূরদূরান্তের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ চলাচল করে। বাঁশের সাঁকো হলেও ভোগান্তির যেন শেষ নেই দৈনন্দিন যাতায়াত করা স্কুল, কলেজপড়ুয়া ছাত্রছাত্রী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের। এ ভোগান্তি চলে আসছে বছরের পর বছর।

স্থানীয় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মজিদ প্রামাণিক, সমাজসেবক খলিলুর রহমান, কৃষক আ. রশিদ মিয়া, ছাত্তার মিয়া জানান, ঘাটটি দিয়ে নদী পারাপারে স্থানীয়দের জন্য অনেক সমস্যা পোহাতে হয়। সেতু হলে আর সমস্যা থাকবে না। তাছাড়া বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দপ্তরে সেতু নির্মাণের দাবি জানানো হয়েছে। প্রশাসনের কাছে দ্রুত একটি সেতু নির্মাণের ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানাচ্ছি।

পলাশবাড়ী উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুজ্জামান নয়ন জানান, সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে সেতু নির্মাণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।